নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, ভোটের দিন অনেক মহিলা ভোটার বোরখা পরে বুথে আসেন। সেই ক্ষেত্রে পরিচয় যাচাইয়ের সময় যাতে কোনও অসুবিধা বা অস্বস্তির পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তার জন্যই এই নতুন পরিকল্পনা। ভাবনা হচ্ছে, প্রতিটি বুথ বা নির্দিষ্ট কিছু বুথে মহিলা কর্মী দ্বারা পরিচালিত আলাদা একটি যাচাই কাউন্টার রাখা হবে। সেখানে মহিলা ভোটাররা স্বাচ্ছন্দ্যে নিজেদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারবেন।
কমিশনের মতে, এর ফলে একদিকে যেমন ভোট প্রক্রিয়া আরও মসৃণ হবে, তেমনি মহিলা ভোটারদের গোপনীয়তাও বজায় থাকবে। পাশাপাশি ভুয়ো ভোট দেওয়ার সম্ভাবনাও কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজ্যে এ ধরনের ব্যবস্থার উদাহরণ রয়েছে, তাই বাংলাতেও তা কার্যকর করা যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
তবে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। বিরোধীদের একাংশের দাবি, ভোট প্রক্রিয়ায় কোনওভাবেই বৈষম্যের ইঙ্গিত থাকা উচিত নয়। অন্যদিকে শাসক শিবিরের মতে, এটি মূলত ভোটারদের সুবিধার কথা ভেবেই করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। তবে ভোটের দিন যাতে কোনও ধরনের বিভ্রান্তি বা বিতর্ক তৈরি না হয়, সেই লক্ষ্যেই বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, সব পক্ষের মতামত নিয়ে তারপরই চূড়ান্ত নির্দেশিকা জারি করা হবে।
ফলে এখন দেখার বিষয়, এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবঙ্গের ভোট ব্যবস্থায় নতুন কী পরিবর্তন আসে এবং তা ভোটারদের কতটা সুবিধা দেয়।