মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যে উঠে আসে যে, কূটনৈতিক আলোচনায় বহু সময়ে দীর্ঘ প্রক্রিয়া লাগে, কিন্তু যখন দুই দেশের নেতৃত্বের মধ্যে ব্যক্তিগত সমঝোতা ও বিশ্বাস তৈরি হয়, তখন সিদ্ধান্ত গ্রহণ অনেক সহজ হয়ে যায়। তিনি জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের সময় ভারতের সঙ্গে একাধিক বাণিজ্যিক মতপার্থক্য ছিল—বিশেষ করে শুল্কনীতি, কৃষিপণ্য আমদানি, মেডিক্যাল ডিভাইসের মূল্যনিয়ন্ত্রণ এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নীতিগত বিষয় নিয়ে। তবে এসব জটিলতা কাটাতে দুই দেশের নেতৃত্বের সরাসরি কথাবার্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, কূটনৈতিক ভাষায় সব কথা খোলাখুলি বলা যায় না, কিন্তু বাস্তবতা হল দুই দেশের নেতাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক অনেক সময়ই নীতিগত আলোচনাকে এগিয়ে দেয়। তাঁর দাবি, ট্রাম্প ও মোদীর একাধিক বৈঠক এবং ফোনালাপের পরেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ইস্যুতে অগ্রগতি দেখা যায়। এর ফলে দুই দেশের ব্যবসায়ী মহলেও ইতিবাচক বার্তা পৌঁছেছিল এবং পারস্পরিক বিনিয়োগের পরিবেশ আরও শক্তিশালী হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ব্যক্তিগত ‘লিডারশিপ ডিপ্লোম্যাসি’ এখন বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠছে। ট্রাম্প ও মোদীর ঘনিষ্ঠতা বহুবার আন্তর্জাতিক মঞ্চেও নজর কেড়েছে—হিউস্টনের ‘হাউডি মোদি’ অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে আহমেদাবাদের ‘নমস্তে ট্রাম্প’ কর্মসূচি পর্যন্ত সেই সম্পর্কের প্রকাশ্য উদাহরণ দেখা গিয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তবে কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বাণিজ্যিক সম্পর্কের উন্নতির পিছনে শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্ক নয়, দুই দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থও বড় ভূমিকা রাখে। ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বাজার এবং আমেরিকা ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার। ফলে মতপার্থক্য থাকলেও উভয় পক্ষই সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা করে। তবু মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাম্প্রতিক মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, অন্তত সেই সময়ে ট্রাম্প ও মোদীর ব্যক্তিগত বোঝাপড়া বাণিজ্য আলোচনাকে গতি দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল—যা কূটনীতির আড়ালে থাকা এক বাস্তব সত্যকেই ইশারায় সামনে এনে দিল।