মুখ্য সমাচার :
নিষ্কৃতিমৃত্যুর পথে হরিশের আবেগঘন বিদায়, ‘সকলকে ক্ষমা করো’ ভিডিও ভাইরাল ছোট বিনিয়োগে বড় লাভ, মাসে ১,০০০ টাকার SIP-এ ১০ বছরে কত টাকা পাবেন? পূর্ব দিকের সূর্যালোকেই বাড়িতে আসে শুভ শক্তি, বলছে বাস্তুশাস্ত্র বাজারে চরম হতাশার দিন শেষ! কবে থেকে ঘুরতে পারে শেয়ারবাজার, আশার বার্তা বিশেষজ্ঞদের রাম নবমী নিয়ে বিভ্রান্তি, ২৬ না ২৭ মার্চ—পঞ্জিকায় কোন দিন নির্ধারিত?

জ্বালানি নীতিতে নতুন মোড়, কয়লা ও কেরোসিনের বরাদ্দ বাড়িয়ে বার্তা কেন্দ্রের

দেশের জ্বালানি নীতিতে নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী জ্বালানির উৎস। দীর্ঘদিন পর আবার কয়লা ব্যবহারের ওপর জোর বাড়ানোর পাশাপাশি কেরোসিনের বরাদ্দও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এক দশকেরও বেশি সময় পরে এই পদক্ষেপ ঘিরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। সরকারের মতে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বিভিন্ন অঞ্চলের বাস্তব চাহিদা মেটাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের জ্বালানি নীতি দীর্ঘদিন ধরেই নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে ঝুঁকেছিল। সৌর শক্তি, বায়ু শক্তি ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে গুরুত্ব বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বাড়া এবং কয়েকটি রাজ্যে জ্বালানির ঘাটতি দেখা দেওয়ায় আবারও কয়লার ব্যবহার বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছে সরকার। বিদ্যুৎ উৎপাদনে এখনও দেশের বড় অংশই কয়লার ওপর নির্ভরশীল। তাই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কয়লা উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
Pressman
13 March, 2026
একই সঙ্গে কেরোসিনের বরাদ্দ বাড়ানোর সিদ্ধান্তও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। শহরাঞ্চলে কেরোসিনের ব্যবহার অনেকটাই কমে গেলেও দেশের বহু প্রত্যন্ত ও দরিদ্র এলাকায় এখনও এটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি। রান্না, আলো কিংবা ছোটখাটো দৈনন্দিন কাজে বহু মানুষ কেরোসিনের ওপর নির্ভর করেন। সেই বাস্তবতাকে মাথায় রেখেই সরকার এই বরাদ্দ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।
সরকারি সূত্রের দাবি, এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য হল জ্বালানি সরবরাহে ভারসাম্য বজায় রাখা। নবায়নযোগ্য শক্তির উন্নয়নের পাশাপাশি প্রচলিত জ্বালানির ব্যবহারও পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। তাই সামগ্রিক চাহিদা মেটাতে সব ধরনের জ্বালানি ব্যবস্থাকে সমন্বয় করেই এগোতে চাইছে কেন্দ্র।
তবে বিরোধী শিবিরের একাংশ এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে কয়লার ব্যবহার কমানোর যে লক্ষ্য স্থির করা হয়েছিল, এই পদক্ষেপ সেই নীতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যদিও সরকারের বক্তব্য, পরিবেশের বিষয়টি মাথায় রেখেই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কয়লা ও অন্যান্য জ্বালানির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
সব মিলিয়ে কয়লা ও কেরোসিনকে আবার গুরুত্ব দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত দেশের জ্বালানি নীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগামী দিনে এর প্রভাব কতটা পড়বে বিদ্যুৎ সরবরাহ, পরিবেশ এবং অর্থনীতির ওপর, সেদিকেই এখন নজর রাখছেন বিশেষজ্ঞরা।
Follow Us ই-পেপার