মুখ্য সমাচার :
নিষ্কৃতিমৃত্যুর পথে হরিশের আবেগঘন বিদায়, ‘সকলকে ক্ষমা করো’ ভিডিও ভাইরাল ছোট বিনিয়োগে বড় লাভ, মাসে ১,০০০ টাকার SIP-এ ১০ বছরে কত টাকা পাবেন? পূর্ব দিকের সূর্যালোকেই বাড়িতে আসে শুভ শক্তি, বলছে বাস্তুশাস্ত্র বাজারে চরম হতাশার দিন শেষ! কবে থেকে ঘুরতে পারে শেয়ারবাজার, আশার বার্তা বিশেষজ্ঞদের রাম নবমী নিয়ে বিভ্রান্তি, ২৬ না ২৭ মার্চ—পঞ্জিকায় কোন দিন নির্ধারিত?

দামে বাড়ার জল্পনায় ইতি? অবস্থান স্পষ্ট করল পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক

বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে পেট্রল ও ডিজেলের দাম বাড়তে পারে—এই আশঙ্কা গত কয়েকদিনে ক্রমশ জোরাল হয়েছিল। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদক দেশগুলিতে উত্তেজনা বৃদ্ধি, সরবরাহ শৃঙ্খলে সম্ভাব্য বিঘ্ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের অস্থিরতা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে তোলে। অনেকেই মনে করছিলেন, খুব শিগগিরই দেশের বাজারেও জ্বালানির দামে বড়সড় বৃদ্ধি দেখা যেতে পারে। তবে এই জল্পনার মধ্যেই মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানিয়ে দিল—এই মুহূর্তে পেট্রল ও ডিজেলের দামে কোনও তাৎক্ষণিক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
Pressman
17 March, 2026

মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতিনিয়ত ওঠানামা করলেও দেশের জ্বালানি সরবরাহে কোনও ঘাটতি নেই। ভারত তার কৌশলগত মজুত এবং বিভিন্ন উৎস থেকে আমদানির মাধ্যমে জ্বালানির ভারসাম্য বজায় রাখছে। সরকারি তেল বিপণন সংস্থাগুলিও পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। ফলে আপাতত সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই বলেই আশ্বস্ত করা হয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং অপরিশোধিত তেলের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে তার প্রভাব ভারতীয় বাজারে পড়তে বাধ্য। কারণ ভারত তার জ্বালানির একটি বড় অংশই আমদানির উপর নির্ভরশীল। ফলে বিশ্ববাজারের দামের সঙ্গে দেশের বাজারের একটা সম্পর্ক থেকেই যায়। যদিও সরকার সাধারণ মানুষের উপর চাপ কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়লে তার প্রভাব শুধু পরিবহণেই সীমাবদ্ধ থাকে না—খাদ্যদ্রব্য থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামেও তার প্রভাব পড়ে। ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এই কারণেই জ্বালানির দামের বিষয়টি সবসময়ই অত্যন্ত সংবেদনশীল।
মন্ত্রকের এই স্পষ্ট অবস্থান কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দিয়েছে দেশবাসীর মধ্যে। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যৎ নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হওয়ার সুযোগ নেই বলেই মত বিশ্লেষকদের। তাই আপাতত দাম স্থিতিশীল থাকলেও, আগামী দিনে কী হতে চলেছে তা অনেকটাই নির্ভর করছে বিশ্বরাজনীতির গতিপ্রকৃতি এবং তেলের আন্তর্জাতিক বাজারের উপর।
Follow Us ই-পেপার