মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার আবহে হঠাৎই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে এক চাঞ্চল্যকর দাবি—ইরানের হামলায় নাকি নিহত হয়েছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu। রাতারাতি এই খবর বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ভাইরাল হয়ে যায় এবং বহু ব্যবহারকারী সেটি শেয়ার করতে শুরু করেন। কিছু পোস্টে দাবি করা হয়, ইরানের তরফে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইজরায়েলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় এবং সেই হামলার জেরেই গুরুতরভাবে আহত হন নেতানিয়াহু। এমনকি কয়েকটি অ্যাকাউন্টে তাঁর মৃত্যুর কথাও লেখা হয়, যা মুহূর্তের মধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে।
এই খবর ছড়াতেই দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেয় ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর। সরকারি সূত্রে জানানো হয়, এই ধরনের খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ভুয়ো। বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী সম্পূর্ণ নিরাপদে রয়েছেন এবং নিয়মিত প্রশাসনিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি নিরাপত্তা ও সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও তিনি অংশ নিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। দপ্তরের তরফে আরও বলা হয়, চলমান সংঘাতের আবহে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে আন্তর্জাতিক মহলে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি হয়।
ইজরায়েলি প্রশাসনের দাবি, তথ্যযুদ্ধ এখন আধুনিক সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। যুদ্ধক্ষেত্রে যেমন অস্ত্রের লড়াই চলছে, তেমনই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে চলছে তথ্য ও গুজবের লড়াই। ভুয়ো খবর ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের মনে ভয় সৃষ্টি করা এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার এবং যাচাই না করা কোনও খবর বিশ্বাস না করার আহ্বান জানিয়েছে সরকার।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। আঞ্চলিক রাজনীতি, সামরিক প্রস্তুতি এবং বিভিন্ন কূটনৈতিক ইস্যু ঘিরে দুই দেশের সম্পর্ক অনেকটাই তলানিতে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতিতে যেকোনও গুজব বা অপ্রমাণিত তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তার প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নেতানিয়াহুর মৃত্যুর মতো সংবেদনশীল খবর সামনে এলে তা সহজেই বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারে, তাই এমন তথ্য প্রকাশের আগে যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।
ইজরায়েলি প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এই ধরনের ভুয়ো তথ্যের উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলকেও অনুরোধ করা হয়েছে যাচাই করা তথ্য ছাড়া অন্য কোনও খবর প্রচার না করতে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকায় আগামী দিনগুলিতে এই ধরনের গুজব আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।