৪৮ ঘণ্টায় ৪ শীর্ষ নেতার মৃত্যুতে তেহরান কাঁপছে, নেতৃত্ব শূন্য করতে মরিয়া ট্রাম্প-নেতানিয়াহু ঘিরে চাঞ্চল্য আন্তর্জাতিক মহলে
ইরানে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে চারজন শীর্ষ সামরিক ও কৌশলগত নেতার রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, আর এই ঘটনায় কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছে তেহরানের প্রশাসনিক ও প্রতিরক্ষা কাঠামোর একাংশ; একের পর এক উচ্চপদস্থ ব্যক্তির মৃত্যুতে শুধু দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাই প্রশ্নের মুখে পড়েনি, বরং গোটা মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে তৈরি হয়েছে নতুন করে উত্তেজনার আবহ, যেখানে কূটনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে এই ধারাবাহিক ঘটনার পেছনে কোনও বৃহৎ আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র কাজ করছে কিনা তা নিয়ে।
সূত্রের দাবি, এই ঘটনাগুলির পরপরই আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্দরে ঘুরে বেড়াতে শুরু করেছে Donald Trump এবং Benjamin Netanyahu-এর নাম, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের জন্য পরিচিত; বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার এবং মিত্র গোষ্ঠীগুলিকে সমর্থনের প্রশ্নে তেহরানের বিরুদ্ধে চাপ বাড়াতে একাধিকবার কৌশলগত পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন তাঁরা, ফলে এই আকস্মিক মৃত্যুমালার সঙ্গে তাঁদের সম্ভাব্য ভূমিকাকে ঘিরে নানা জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে, যদিও এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক স্বীকারোক্তি বা প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ইরানের অভ্যন্তরে এই ধরনের ধারাবাহিক নেতৃত্বহীনতা তৈরি হলে তা দেশের সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে এবং সীমান্তে সক্রিয় বিভিন্ন গোষ্ঠীর উপর নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়; একইসঙ্গে, ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্ররা এই মুহূর্তে নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা ও আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে থাকায় তেহরান কার্যত একপ্রকার কূটনৈতিক নিঃসঙ্গতার মুখে পড়তে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
অন্যদিকে, ইরান সরকার ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত নাশকতা’ বলে আখ্যা দিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে এবং দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে; শাসক মহল থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, দায়ীদের চিহ্নিত করে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমনকি প্রয়োজনে পাল্টা কূটনৈতিক বা সামরিক পদক্ষেপও করা হতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও বিস্ফোরক করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাপ্রবাহ যদি অব্যাহত থাকে, তবে তা শুধু ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকেই নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যকেও গভীরভাবে নাড়া দিতে পারে; ইতিমধ্যেই তেল বাজার থেকে শুরু করে বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, আর সেই প্রেক্ষিতে বিশ্বজুড়ে নজর এখন তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপ ও সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার দিকেই কেন্দ্রীভূত।