একইসঙ্গে, এই সফরকে ঘিরে বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণের সুরও চরমে তুলতে প্রস্তুত Mamata Banerjee। কেন্দ্রের নীতি, আর্থিক বরাদ্দে বঞ্চনা, রাজ্যের পাওনা আটকে রাখা, এবং প্রশাসনিক ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ—এই সমস্ত ইস্যুকেই সামনে এনে বিজেপিকে কোণঠাসা করার কৌশল নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্যে একদিকে যেমন উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরবেন, তেমনই আবেগঘন ও আক্রমণাত্মক ভাষণে কর্মী-সমর্থকদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করবেন, যা নির্বাচনের আগে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, প্রশাসনিক বৈঠকগুলিও এই সফরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে চলেছে। প্রতিটি জেলায় গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সরকারি প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন, উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি এবং বিভিন্ন দফতরের কাজকর্ম খতিয়ে দেখবেন। কোথাও গাফিলতি ধরা পড়লে কড়া বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত সমস্যা সমাধানের নির্দেশও দিতে পারেন তিনি। এমনকি নতুন কিছু প্রকল্প বা আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, যা সরাসরি ভোটারদের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
দলীয় অন্দরে এই সফরকে ঘিরে বাড়তি উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্ব মনে করছে, মাটিতে নেমে সরাসরি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি, আর সেই জায়গাটিকেই আরও মজবুত করতে চাইছেন দলনেত্রী। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলায় কর্মিসভা, প্রস্তুতি বৈঠক এবং প্রচার পরিকল্পনা নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা চলছে। প্রতিটি সভায় বিপুল জনসমাগম নিশ্চিত করতে স্থানীয় নেতৃত্বকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই জেলা সফর আসলে দ্বিমুখী কৌশলের অংশ—একদিকে প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানো, অন্যদিকে রাজনৈতিক বার্তা জোরদার করা। বিশেষ করে বিজেপির বাড়তে থাকা সংগঠন ও প্রচারের মোকাবিলায় তৃণমূল যে আক্রমণাত্মক পথেই হাঁটতে চাইছে, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে এই কর্মসূচিতে। পাল্টা হিসেবে বিজেপিও নিজেদের কর্মসূচি জোরদার করছে, ফলে রাজ্যের রাজনৈতিক ময়দান আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সবমিলিয়ে, এই জেলা সফর শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং আসন্ন নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের শক্তি প্রদর্শনের এক বড় মঞ্চ হয়ে উঠতে চলেছে। মাঠে নেমে সরাসরি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, উন্নয়নের বার্তা এবং বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ—এই তিনকে হাতিয়ার করেই রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াইকে নতুন মাত্রা দিতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।