পশ্চিম এশিয়ায় নতুন জোটের ইঙ্গিত, কূটনৈতিক চালেই চাপ বাড়াতে চাইছে তেহরান-বেইজিং
পশ্চিম এশিয়ার ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠা ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মাঝে এক নতুন সমীকরণের আভাস দিচ্ছে ইরান ও চীনের ঘনিষ্ঠতা, যেখানে কূটনৈতিক চালেই আন্তর্জাতিক চাপকে মোকাবিলা করার রণকৌশল স্পষ্ট হয়ে উঠছে; সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক চুক্তি এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা এই বার্তাই দিচ্ছে যে, তেহরান ও বেইজিং কেবলমাত্র বাণিজ্যিক সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ থাকতে চাইছে না, বরং একটি সুসংহত কৌশলগত জোট গড়ে তুলতে আগ্রহী, যা ভবিষ্যতে পশ্চিম এশিয়ার ক্ষমতার ভারসাম্যে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে; বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের ওপর পশ্চিমি নিষেধাজ্ঞার চাপ কমাতে চীনের বিনিয়োগ ও জ্বালানি সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, অন্যদিকে চীনও এই সুযোগে মধ্যপ্রাচ্যে তার অর্থনৈতিক ও কৌশলগত উপস্থিতি জোরদার করতে চাইছে, বিশেষ করে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগের সম্প্রসারণে ইরানের ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগাতে আগ্রহী বেইজিং;
এই প্রেক্ষাপটে, জ্বালানি নিরাপত্তা একটি বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে, কারণ ইরানের বিপুল তেল ও গ্যাস ভাণ্ডার চীনের দীর্ঘমেয়াদি শক্তির চাহিদা পূরণে সহায়ক হতে পারে, ফলে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল; একইসঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও যৌথ মহড়া, প্রযুক্তি বিনিময় এবং গোয়েন্দা তথ্য আদানপ্রদানের মতো বিষয়গুলি আলোচনায় উঠে আসছে বলে আন্তর্জাতিক মহলের দাবি, যা ভবিষ্যতে সামরিক ক্ষেত্রেও এই জোটকে শক্তিশালী করে তুলতে পারে;
অন্যদিকে, এই ঘনিষ্ঠতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আমেরিকা ও তার মিত্রদের মধ্যে, কারণ ইরান-চীন সমীকরণ শক্তিশালী হলে পশ্চিম এশিয়ায় তাদের প্রভাব কিছুটা হলেও কমতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে; বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর মতো কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে যদি এই দুই দেশের সমন্বয় বাড়ে, তাহলে বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের উপর তার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়তে পারে;
পর্যবেক্ষকদের মতে, পুরো বিষয়টি অনেকটাই দাবার খেলার মতো—যেখানে প্রত্যেকটি পদক্ষেপ অত্যন্ত হিসেব করে নেওয়া হচ্ছে এবং সরাসরি সংঘাতে না গিয়ে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চালের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার চেষ্টা চলছে; ফলে আগামী দিনে এই জোট কতটা কার্যকর হয় এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়, তবে এটুকু স্পষ্ট যে তেহরান ও বেইজিং ইতিমধ্যেই নিজেদের অবস্থান মজবুত করতে দীর্ঘমেয়াদি খেলার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে।