বিশেষজ্ঞরা আরও জানাচ্ছেন, তৃষ্ণা লাগার অপেক্ষা না করে নির্দিষ্ট সময় অন্তর জল পান করার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। অনেক সময় কাজের ব্যস্ততায় মানুষ জল খেতে ভুলে যান। এর ফলে শরীরে ধীরে ধীরে জলশূন্যতা তৈরি হয়, যার লক্ষণ হিসেবে মাথাব্যথা, মনোযোগের ঘাটতি, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া কিংবা প্রস্রাবের রং গাঢ় হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণকে অবহেলা করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
শুধু জলই নয়, গরমে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে খাদ্যাভ্যাসেও কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি বলে মনে করছেন পুষ্টিবিদরা। প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় জলসমৃদ্ধ ফল ও সবজি যেমন তরমুজ, শসা, কমলা, আনারস বা ডাবের জল রাখলে শরীর সহজেই পর্যাপ্ত তরল পায়। এগুলিতে থাকা প্রাকৃতিক খনিজ ও ভিটামিন শরীরকে সতেজ রাখতেও সাহায্য করে।
অনেকেই আবার ঠান্ডা পানীয়, সফট ড্রিংকস বা অতিরিক্ত কফি খেয়ে শরীরকে ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করেন। কিন্তু এই পানীয়গুলিতে থাকা অতিরিক্ত চিনি ও ক্যাফেইন দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এতে সাময়িক সতেজতা মিললেও প্রকৃতপক্ষে শরীরের জলের ঘাটতি পূরণ হয় না। বরং অতিরিক্ত এসব পানীয় খেলে শরীর আরও দ্রুত ডিহাইড্রেশনের দিকে যেতে পারে।
তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় জলপানকে অগ্রাধিকার দিন। বাড়ি, অফিস বা বাইরে—যেখানেই থাকুন না কেন, সঙ্গে একটি পানির বোতল রাখার অভ্যাস তৈরি করা ভালো। ছোট ছোট বিরতিতে নিয়মিত জল পান করলে শরীর হাইড্রেটেড থাকে এবং ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। সহজ এই অভ্যাসই গরমের দিনে শরীরকে সুস্থ, সতেজ ও কর্মক্ষম রাখতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।