মুখ্য সমাচার :
নিষ্কৃতিমৃত্যুর পথে হরিশের আবেগঘন বিদায়, ‘সকলকে ক্ষমা করো’ ভিডিও ভাইরাল ছোট বিনিয়োগে বড় লাভ, মাসে ১,০০০ টাকার SIP-এ ১০ বছরে কত টাকা পাবেন? পূর্ব দিকের সূর্যালোকেই বাড়িতে আসে শুভ শক্তি, বলছে বাস্তুশাস্ত্র বাজারে চরম হতাশার দিন শেষ! কবে থেকে ঘুরতে পারে শেয়ারবাজার, আশার বার্তা বিশেষজ্ঞদের রাম নবমী নিয়ে বিভ্রান্তি, ২৬ না ২৭ মার্চ—পঞ্জিকায় কোন দিন নির্ধারিত?

গরমে তৃষ্ণা মেটাতে চা-কফি নয়, ডিহাইড্রেশন রুখতে চাই পর্যাপ্ত জল

গরমের তাপমাত্রা যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে শরীরে জলশূন্যতার আশঙ্কা। অনেকেই দিনের শুরু থেকে রাত পর্যন্ত একাধিকবার চা বা কফি পান করে তৃষ্ণা মেটানোর চেষ্টা করেন। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করছেন—চা বা কফি কখনওই শরীরের প্রকৃত তৃষ্ণা মেটাতে পারে না। বরং এই পানীয়গুলিতে থাকা ক্যাফেইন শরীর থেকে জল বেরিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ায়, যার ফলে অজান্তেই শরীরে ডিহাইড্রেশন বা জলশূন্যতা তৈরি হতে পারে। তাই গরমের দিনে সুস্থ থাকতে হলে সবচেয়ে বড় ভরসা হওয়া উচিত পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করার অভ্যাস। চিকিৎসকদের মতে, শরীরের স্বাভাবিক কাজকর্ম ঠিক রাখতে এবং কোষের কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা অত্যন্ত জরুরি। সাধারণভাবে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে অন্তত ২ থেকে ৩ লিটার জল পান করা উচিত। তবে গরমে বেশি ঘাম হলে বা দীর্ঘ সময় রোদে থাকতে হলে এই পরিমাণ আরও বাড়ানো দরকার। কারণ ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে প্রচুর জল ও লবণ বেরিয়ে যায়, যা পূরণ না হলে ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, এমনকি হিট স্ট্রোকের ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে।
Pressman
16 March, 2026
বিশেষজ্ঞরা আরও জানাচ্ছেন, তৃষ্ণা লাগার অপেক্ষা না করে নির্দিষ্ট সময় অন্তর জল পান করার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। অনেক সময় কাজের ব্যস্ততায় মানুষ জল খেতে ভুলে যান। এর ফলে শরীরে ধীরে ধীরে জলশূন্যতা তৈরি হয়, যার লক্ষণ হিসেবে মাথাব্যথা, মনোযোগের ঘাটতি, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া কিংবা প্রস্রাবের রং গাঢ় হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণকে অবহেলা করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
শুধু জলই নয়, গরমে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে খাদ্যাভ্যাসেও কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি বলে মনে করছেন পুষ্টিবিদরা। প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় জলসমৃদ্ধ ফল ও সবজি যেমন তরমুজ, শসা, কমলা, আনারস বা ডাবের জল রাখলে শরীর সহজেই পর্যাপ্ত তরল পায়। এগুলিতে থাকা প্রাকৃতিক খনিজ ও ভিটামিন শরীরকে সতেজ রাখতেও সাহায্য করে।
অনেকেই আবার ঠান্ডা পানীয়, সফট ড্রিংকস বা অতিরিক্ত কফি খেয়ে শরীরকে ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করেন। কিন্তু এই পানীয়গুলিতে থাকা অতিরিক্ত চিনি ও ক্যাফেইন দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এতে সাময়িক সতেজতা মিললেও প্রকৃতপক্ষে শরীরের জলের ঘাটতি পূরণ হয় না। বরং অতিরিক্ত এসব পানীয় খেলে শরীর আরও দ্রুত ডিহাইড্রেশনের দিকে যেতে পারে।
তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় জলপানকে অগ্রাধিকার দিন। বাড়ি, অফিস বা বাইরে—যেখানেই থাকুন না কেন, সঙ্গে একটি পানির বোতল রাখার অভ্যাস তৈরি করা ভালো। ছোট ছোট বিরতিতে নিয়মিত জল পান করলে শরীর হাইড্রেটেড থাকে এবং ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। সহজ এই অভ্যাসই গরমের দিনে শরীরকে সুস্থ, সতেজ ও কর্মক্ষম রাখতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
Follow Us ই-পেপার