মুখ্য সমাচার :
নিষ্কৃতিমৃত্যুর পথে হরিশের আবেগঘন বিদায়, ‘সকলকে ক্ষমা করো’ ভিডিও ভাইরাল ছোট বিনিয়োগে বড় লাভ, মাসে ১,০০০ টাকার SIP-এ ১০ বছরে কত টাকা পাবেন? পূর্ব দিকের সূর্যালোকেই বাড়িতে আসে শুভ শক্তি, বলছে বাস্তুশাস্ত্র বাজারে চরম হতাশার দিন শেষ! কবে থেকে ঘুরতে পারে শেয়ারবাজার, আশার বার্তা বিশেষজ্ঞদের রাম নবমী নিয়ে বিভ্রান্তি, ২৬ না ২৭ মার্চ—পঞ্জিকায় কোন দিন নির্ধারিত?

মাটন প্রেমীদের জন্য সতর্কবার্তা! এই রোগ থাকলে খাসির মাংসেই বাড়বে বিপদ

বাঙালির খাবারের তালিকায় খাসির মাংস বা মাটনের জনপ্রিয়তা নতুন কিছু নয়। উৎসব হোক, ছুটির দিন হোক কিংবা পরিবারের বিশেষ আয়োজন—মাটন থাকলেই যেন খাওয়ার আনন্দ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। কিন্তু এই সুস্বাদু খাবারই অনেক সময় শরীরের জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসকেরা। বিশেষ করে যাঁরা কিছু নির্দিষ্ট রোগে ভুগছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে মাটন খাওয়ার আগে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।
Pressman
10 March, 2026

চিকিৎসকদের মতে, খাসির মাংসে প্রচুর প্রোটিন থাকলেও এতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং কোলেস্টেরলের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। ফলে যাঁদের আগে থেকেই উচ্চ কোলেস্টেরল বা হৃদরোগের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য অতিরিক্ত মাটন খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বেশি পরিমাণে লাল মাংস খেলে ধমনিতে চর্বি জমার প্রবণতা বাড়ে, যা ধীরে ধীরে হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ বাড়ায়। দীর্ঘদিন ধরে এই অভ্যাস বজায় থাকলে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এছাড়াও ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যায় ভোগা মানুষদের ক্ষেত্রেও খাসির মাংস খাওয়া বিপদের কারণ হতে পারে। মাটনে থাকা পিউরিন শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে। এর ফলে গাউটের সমস্যা তীব্র হতে পারে, গাঁটে ব্যথা, ফোলা বা চলাফেরায় অস্বস্তি বেড়ে যেতে পারে। তাই যাঁদের ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি, তাঁদের মাটন খাওয়ার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত মাটন খাওয়া খুব একটা উপকারী নয়। কারণ লাল মাংসে থাকা ফ্যাট শরীরে অতিরিক্ত ওজন বাড়াতে পারে এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নিয়মিত বেশি মাটন খাওয়ার অভ্যাস শরীরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মত পুষ্টিবিদদের।
উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। মাটনের সঙ্গে যদি বেশি তেল, মশলা ও লবণ ব্যবহার করা হয়, তাহলে তা রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে।
তবে চিকিৎসকেরা এটাও জানাচ্ছেন, সম্পূর্ণভাবে মাটন খাওয়া বন্ধ করতে হবে এমন নয়। সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে সীমিত পরিমাণে এবং সঠিকভাবে রান্না করা মাটন খেলে সাধারণত বড় কোনও সমস্যা হয় না। কিন্তু যাঁদের আগে থেকেই শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে সপ্তাহে একবার বা খুব অল্প পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি অতিরিক্ত তেল ও চর্বিযুক্ত অংশ এড়িয়ে চলা এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ থাকতে হলে শুধু স্বাদের দিকে নয়, খাবারের পুষ্টিগুণ এবং শরীরের প্রয়োজনের দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তাই মাটনের প্রতি ভালোবাসা থাকলেও নিজের শারীরিক অবস্থার কথা মাথায় রেখে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
Follow Us ই-পেপার