তবে চিকিৎসকদের মতে, সব ক্ষেত্রে শ্বেতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে না। অনেক সময় দাগ দীর্ঘদিন একই জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকে। আবার কিছু ক্ষেত্রে শরীরের বিভিন্ন অংশে নতুন দাগ দেখা দিতে পারে। রোগটির প্রকৃতি ব্যক্তি ভেদে আলাদা হয়। তাই এক জনের অভিজ্ঞতা অন্য জনের ক্ষেত্রে একই রকম হবে—এমনটা ভাবা ঠিক নয়।
শ্বেতি নিয়ে সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা হল এটি সংক্রামক। চিকিৎসকরা স্পষ্ট জানাচ্ছেন, এই রোগ একেবারেই ছোঁয়াচে নয়। একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া, স্পর্শ, একই বাসন ব্যবহার বা কাছাকাছি থাকার মাধ্যমে শ্বেতি ছড়ায় না। ফলে এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে সামাজিকভাবে দূরে সরিয়ে রাখা বা আলাদা আচরণ করার কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বরং এ ধরনের আচরণ রোগীর মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে।
রোগটির সঠিক কারণ এখনও সম্পূর্ণভাবে জানা না গেলেও কয়েকটি সম্ভাব্য কারণের কথা উল্লেখ করেন বিশেষজ্ঞরা। বংশগত প্রবণতা, থাইরয়েড বা অন্যান্য অটোইমিউন রোগ, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, হরমোনের পরিবর্তন, ত্বকে বারবার আঘাত লাগা বা সূর্যের অতিরিক্ত তাপ—এই সব কারণ শ্বেতির ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে মনে করা হয়। অনেক সময় কোনও স্পষ্ট কারণ ছাড়াও এই রোগ দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে বর্তমানে বিভিন্ন আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় বিশেষ ধরনের ওষুধ ও মলম ব্যবহার করা হয়। এছাড়া ফোটোথেরাপি, লেজার চিকিৎসা বা কিছু ক্ষেত্রে সার্জিক্যাল পদ্ধতির সাহায্যেও চিকিৎসা করা হয়। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে ত্বকের স্বাভাবিক রঙও ফিরে আসতে দেখা যায়। তবে চিকিৎসার ফলাফল অনেকটাই নির্ভর করে রোগের পর্যায়, দাগের অবস্থান এবং রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর।
চিকিৎসকদের মতে, শ্বেতি ধরা পড়ার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ধৈর্য ধরে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া। অনেক সময় দীর্ঘদিন চিকিৎসা চালাতে হয়। পাশাপাশি সূর্যের তীব্র আলো থেকে ত্বককে রক্ষা করা, সানস্ক্রিন ব্যবহার করা, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং মানসিক চাপ কমিয়ে রাখা—এই বিষয়গুলিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, সমাজে সচেতনতা বাড়ানোও অত্যন্ত জরুরি। কারণ অনেক সময় শ্বেতি আক্রান্ত মানুষকে অকারণে কুসংস্কার বা ভুল ধারণার কারণে সামাজিক সমস্যার মুখে পড়তে হয়। অথচ এটি এমন একটি ত্বকের সমস্যা, যা সঠিক চিকিৎসা ও যত্নে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তাই শরীরে হঠাৎ সাদা দাগ দেখা দিলে ভয় না পেয়ে দ্রুত ত্বক বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করাই বুদ্ধিমানের কাজ। এতে রোগের বিস্তার রোধ করা সহজ হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক জীবনযাপন বজায় রাখা সম্ভব হয়।