হঠাৎ এমন খবর শুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বৃদ্ধা। প্রতারকরা সেই ভয়কেই কাজে লাগায়। প্রথমে তাঁকে আশ্বস্ত করা হয় যে সামান্য কিছু প্রসেসিং চার্জ এবং ট্যাক্স জমা দিলেই পলিসি ঠিক হয়ে যাবে। এরপর ধাপে ধাপে নানা অজুহাতে টাকা চাইতে থাকে ওই চক্র। কখনও বলা হয় ‘পলিসি রিভাইভাল ফি’, কখনও আবার ‘ক্লিয়ারেন্স চার্জ’ বা ‘সিকিউরিটি ডিপোজিট’। বৃদ্ধা বিশ্বাস করে একাধিকবার অনলাইন ট্রান্সফারের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে থাকেন। প্রতিবারই তাঁকে বলা হয় এটাই শেষ পেমেন্ট, এর পরেই নাকি তাঁর বিমার টাকা নিরাপদ হয়ে যাবে।
এইভাবে কয়েকদিনের মধ্যেই প্রতারকরা ধীরে ধীরে তাঁর কাছ থেকে প্রায় ৪৮ লক্ষ টাকা আদায় করে নেয়। টাকা পাঠানোর পরও যখন প্রতারকদের পক্ষ থেকে আরও অর্থ দাবি করা হয়, তখনই বৃদ্ধার সন্দেহ হয়। পরে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানালে তারা পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখে বুঝতে পারে এটি একটি সুপরিকল্পিত সাইবার প্রতারণা। এরপরই দ্রুত স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ও সাইবার ক্রাইম দফতর তদন্ত শুরু করেছে। কোন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা গিয়েছে, সেই অ্যাকাউন্টের লেনদেনের তথ্য, ফোন নম্বর এবং আইপি অ্যাড্রেস খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের ধারণা, এই ঘটনার পিছনে একটি সংগঠিত সাইবার চক্র কাজ করছে, যারা বিভিন্ন রাজ্য থেকে ফোন করে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলে টাকা হাতিয়ে নেয়।
পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে এই ধরনের প্রতারণার ঘটনা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষদের টার্গেট করেই প্রতারকরা বিমা, ব্যাঙ্ক, কেওয়াইসি আপডেট বা লোন সংক্রান্ত নানা অজুহাতে ফোন করছে। অনেক সময় তারা এমনভাবে কথা বলে যে সাধারণ মানুষ সহজেই বিশ্বাস করে ফেলেন।
এই ঘটনার পর পুলিশ সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। কোনও অচেনা নম্বর থেকে ফোন করে যদি বিমা, ব্যাঙ্ক বা অন্য কোনও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নাম করে টাকা চাওয়া হয়, তাহলে তা যাচাই না করে কখনওই অর্থ পাঠানো উচিত নয়। প্রয়োজন হলে সরাসরি সংশ্লিষ্ট সংস্থার অফিসিয়াল নম্বরে যোগাযোগ করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সন্দেহজনক ফোন বা লেনদেনের ক্ষেত্রে দ্রুত সাইবার ক্রাইম হেল্পলাইন বা থানায় অভিযোগ জানানোর পরামর্শও দিয়েছে পুলিশ।