পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির জোগান ও দামে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় তার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায়, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহারের অন্যতম ভরসা কেরোসিনের সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে প্রশাসনের অন্দরেই, এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে যাতে কোনও রকম ভোগান্তি বা বৈষম্য না হয়, তা নিশ্চিত করতে রাজ্যের খাদ্য দফতর কেরোসিন বণ্টনে একটি কড়া আদর্শ কার্যপদ্ধতি বা SOP জারি করেছে, নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে—প্রতিটি রেশন ডিলারকে নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী গ্রাহকদের মধ্যে কেরোসিন বিতরণ করতে হবে এবং কোনওভাবেই অতিরিক্ত মজুত, কালোবাজারি বা বেআইনি বিক্রি বরদাস্ত করা হবে না, বণ্টনের পুরো প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করতে ডিজিটাল রেজিস্টার রক্ষণাবেক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং প্রতিদিনের লেনদেন অনলাইনে আপলোড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি প্রতিটি জেলায় নজরদারি বাড়াতে বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠনের কথাও জানানো হয়েছে, যাতে হঠাৎ চাহিদা বেড়ে গেলে বা কোথাও সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়,
খাদ্য দফতরের একাধিক আধিকারিকের মতে, আন্তর্জাতিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানির সরবরাহ চেইন অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় আগাম সতর্কতা হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে ইতিমধ্যেই বাজারে কেরোসিন মজুত করার প্রবণতা বাড়ছে বলে খবর মিলেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে, তাই সাধারণ মানুষকে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে নির্দিষ্ট প্রয়োজন অনুযায়ী কেরোসিন নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, একই সঙ্গে যে কোনও অনিয়ম বা অভিযোগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে, সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির অভিঘাত যে ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের রান্নাঘর পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না