২০০৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন আরাবুল ইসলাম। সে সময় তিনি সিপিএম প্রার্থী মোশাররফ হোসেন লস্করকে পরাজিত করে বিধায়ক হন। তখন বিধানসভায় তৃণমূলের মাত্র ৩০ জন বিধায়ক ছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন আরাবুল।
তবে ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পরিবর্তনের হাওয়াতেও পরাজিত হতে হয় তাঁকে। তৃণমূলেরই গোঁজ প্রার্থী নান্নু হোসেন বিদ্রোহী হয়ে দাঁড়ানোয় ভোটে বিভাজন ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত সিপিএম প্রার্থী বাদল জমাদারের কাছে হেরে যান আরাবুল। এরপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দলের ভিতরে তাঁর গুরুত্ব কমতে থাকে। একাধিকবার দল তাঁকে বহিষ্কারও করে।
সোমবার সকালে ভাঙড় থেকে হুগলির ফুরফুরা শরিফে যান আরাবুল। সেখানে পীরজাদাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর তিনি বলেন,
“আজ থেকে আমি তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করলাম। নতুন জীবন শুরু করছি। হয়তো দু’দিনের মধ্যেই জানতে পারবেন আমি কোন দলে যাচ্ছি।”
যদিও তৃণমূল নেতৃত্ব আগেই তাঁকে বহিষ্কার করেছিল। সেই প্রসঙ্গে আরাবুলের বক্তব্য,
“বহিষ্কার তো আগেও করেছে। পাঁচ বার জেলও খাটিয়েছে। শুধু বহিষ্কার করলেই হত, জেল খাটানোর দরকার ছিল না।”
তিনি আরও জানান, জেল থেকে মুক্তির পরেও দলের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করেছেন। কিন্তু তবুও তাঁকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তাঁর অভিযোগ,
“যে দলের জন্য প্রাণপাত করেছি, সেই দলই আমাকে বার বার অপমান করেছে। আমি আর সেই অপমান মাথায় নিয়ে বসে থাকব না। তৃণমূলের কোনও নেতার সঙ্গে আর আমার সম্পর্ক থাকবে না।”
এছাড়াও আরাবুল দাবি করেন, তাঁকে বহিষ্কার করানোর জন্য তৃণমূলের এক নেতা নাকি কোটি টাকা খরচ করেছেন।
আরাবুলের ঘনিষ্ঠ মহলের একাংশের দাবি, ভাঙড়ের রাজনীতিতে তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার ক্রমবর্ধমান প্রভাবের জেরে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন আরাবুল। দলের কাছে একাধিকবার দরবার করেও গুরুত্ব না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
তবে ঠিক কোন দলে যোগ দেবেন, তা এখনও স্পষ্ট করে জানাননি প্রাক্তন বিধায়ক। আরাবুল নিজেই জানিয়েছেন, আগামী দু’দিনের মধ্যেই তিনি তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রকাশ করবেন।
যদিও ভাঙড়ের রাজনৈতিক মহলে এখনই জোর গুঞ্জন, আইএসএফের সঙ্গেই নতুন রাজনৈতিক পথচলা শুরু করতে পারেন তিনি।