আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মিল—সুকান্ত পাল এবং জসিমউদ্দীন মল্লিক দুজনেই আমতা রামসদয় কলেজের প্রাক্তন জেনারেল সেক্রেটারি (GS)। ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা এই দুই প্রার্থীর মধ্যে এক ধরনের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহ তৈরি হয়েছে, যা ভোটারদের মধ্যেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। কলেজ রাজনীতির সেই পুরনো লড়াই এবার যেন বৃহত্তর রাজনৈতিক ময়দানে নতুন রূপে ফিরে এসেছে।
স্থানীয় ইস্যুর দিক থেকে আমতা এখনও গ্রামীণ সমস্যায় জর্জরিত। কৃষি নির্ভর অর্থনীতি, সেচব্যবস্থার সমস্যা, গ্রামীণ রাস্তা, পানীয় জল এবং বেকারত্ব—এই সব বিষয়ই ভোটারদের মনে প্রভাব ফেলছে। তৃণমূল উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরছে, বিজেপি পরিবর্তনের ডাক দিচ্ছে, আর সিপিআই(এম) স্থানীয় সংগঠন ও জনসংযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের জায়গা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে।
ভোটের অঙ্কও এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হিন্দু-মুসলিম ভোটের ভারসাম্য, গ্রামীণ ভোটব্যাঙ্ক, এবং বিরোধী ভোটের বিভাজন—সব মিলিয়ে ফলাফল কোন দিকে যাবে, তা এখনও অনিশ্চিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, কংগ্রেস যদি শক্তিশালী প্রার্থী দেয়, তাহলে তারা “কিংমেকার” ভূমিকাতেও উঠে আসতে পারে।
প্রচার ইতিমধ্যেই তুঙ্গে। মিছিল, পথসভা, ঘরোয়া বৈঠক এবং সোশ্যাল মিডিয়া—সব মাধ্যমেই চলছে জোরদার প্রচার। বুথ স্তরের প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছে সব দল।
সব মিলিয়ে, আমতা বিধানসভা কেন্দ্র এবারের নির্বাচনে অন্যতম হাই-ভোল্টেজ আসনে পরিণত হয়েছে। ভূমিপুত্রদের লড়াই, ছাত্র রাজনীতির পুরনো সমীকরণ এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি—সবকিছু মিলিয়ে এই কেন্দ্রের ফলাফল হতে পারে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।