বলিউডে দেশাত্মবোধক ছবির অন্যতম মুখ হিসেবে বহুদিন ধরেই পরিচিত Akshay Kumar। Airlift, Kesari, Mission Mangal, Rustom—এমন একাধিক ছবিতে দেশের প্রতি গর্ব, সাহস এবং আত্মত্যাগের গল্প তুলে ধরেছেন তিনি। তবে দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে কটাক্ষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই ‘কানাডিয়ান কুমার’ বলে সম্বোধন করেন, কারণ একসময় তাঁর কাছে কানাডার নাগরিকত্ব ছিল। সেই কটাক্ষের জবাব দিতেই কি বারবার দেশাত্মবোধক সিনেমা বেছে নেন অভিনেতা? সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে সরাসরি জবাব দিয়েছেন তিনি।
অভিনেতার কথায়, দেশাত্মবোধক সিনেমা করার পেছনে কোনও প্রমাণ করার মানসিকতা নেই। বরং তিনি সব সময় এমন গল্প বেছে নিতে চান, যা দর্শকদের অনুপ্রাণিত করে এবং দেশের ইতিহাস বা সাফল্যের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তুলে ধরে। তাঁর দাবি, দেশকে ভালোবাসার জন্য কারও কাছে প্রমাণ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং একজন অভিনেতা হিসেবে ভাল গল্প এবং শক্তিশালী চরিত্রই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এই প্রসঙ্গে Akshay Kumar আরও বলেন, অনেক সময়ই সোশ্যাল মিডিয়ায় অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য বা কটাক্ষ ছড়িয়ে পড়ে, কিন্তু সেগুলিকে তিনি খুব বেশি গুরুত্ব দেন না। তাঁর মতে, একজন শিল্পীর কাজ হল নিজের কাজের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছনো। যদি কোনও ছবি দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়, তবেই সেটাই সবচেয়ে বড় সাফল্য।
দেশাত্মবোধক ছবির প্রসঙ্গ টেনে অভিনেতা বলেন, ভারতের ইতিহাসে এমন অসংখ্য ঘটনা রয়েছে যেগুলি এখনও বড় পর্দায় তুলে ধরা হয়নি। সেই সব গল্প দর্শকদের সামনে আনার মধ্যেই তিনি আনন্দ পান। তাই কোনও সমালোচনা বা কটাক্ষের জবাব দেওয়ার জন্য নয়, বরং গল্পের শক্তির কারণেই তিনি এই ধরনের সিনেমা করতে আগ্রহী হন।
উল্লেখ্য, কয়েক বছর আগে নাগরিকত্ব নিয়ে বিতর্কের পর অবশেষে ভারতীয় নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন Akshay Kumar। এরপর থেকেই এই বিতর্ক অনেকটাই থিতিয়ে গেলেও মাঝে মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘কানাডিয়ান কুমার’ মন্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। তবে অভিনেতার স্পষ্ট বার্তা—তিনি সমালোচনায় নয়, বরং নিজের কাজেই বিশ্বাসী। আর দর্শকদের জন্য ভাল সিনেমা উপহার দেওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য।