সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের সংগীতজীবনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শ্রেয়া জানান, দীর্ঘদিন ধরে চলচ্চিত্রের জন্য গান গাওয়ার পাশাপাশি এখন তিনি লাইভ কনসার্ট, আন্তর্জাতিক মিউজিক ট্যুর এবং স্বাধীন সংগীত প্রজেক্টে আরও বেশি সময় দিতে চান। তাঁর মতে, একজন শিল্পীর জন্য নতুন সুর, নতুন ধারা এবং নতুন অভিজ্ঞতার খোঁজে বেরিয়ে পড়া খুবই স্বাভাবিক বিষয়। সংগীতের জগতে তিনি এখনও সক্রিয় থাকলেও, কাজের ধরনে কিছু পরিবর্তন আনার ইচ্ছার কথাও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। এই মন্তব্যের পর থেকেই সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—তবে কি ধীরে ধীরে প্লেব্যাক গানের ব্যস্ততা কমিয়ে অন্য ধরনের সংগীতচর্চার দিকে এগোচ্ছেন তিনি?
বর্তমান সময়ে সংগীত শিল্পের ধরণও অনেকটাই বদলে গেছে। আগে যেখানে চলচ্চিত্রের গানই ছিল গায়কদের মূল পরিচয়, এখন সেখানে স্বাধীন সংগীত, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং লাইভ পারফরম্যান্সের গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। অনেক শিল্পীই তাই নিজেদের কেরিয়ার নতুনভাবে সাজানোর কথা ভাবছেন। এর আগেও জনপ্রিয় গায়ক Arijit Singh-এর ক্ষেত্রেও দেখা গেছে, তিনি সিনেমার গানের পাশাপাশি লাইভ শো এবং নিজের সংগীতচর্চায় বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। সেই প্রেক্ষাপটেই শ্রেয়া ঘোষালকে ঘিরে এই জল্পনা আরও জোরাল হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
সংগীতজীবনের শুরু থেকেই শ্রেয়া ঘোষাল অসাধারণ প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন। টেলিভিশনের সংগীত প্রতিযোগিতা জিতে সংগীতজগতে নিজের যাত্রা শুরু করেছিলেন তিনি। এরপর পরিচালক Sanjay Leela Bhansali-র নজরে পড়ে তাঁর বড় সুযোগ আসে Devdas ছবিতে। সেই ছবির ‘বৈরি পিয়া’ গান দিয়েই বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি এবং প্রথম ছবিতেই নিজের অনন্য কণ্ঠের জন্য দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়ে নেন। এরপর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি বলিউডের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ও জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী হয়ে ওঠেন।
শুধু হিন্দি নয়, বাংলা, তামিল, তেলুগু, মালয়ালম, কন্নড়, মারাঠি সহ বহু ভাষায় হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন শ্রেয়া। তাঁর কণ্ঠে ‘ডোলা রে ডোলা’, ‘তেরে মস্ত মস্ত দো ন্যায়ন’, ‘মনওয়া লাগে’, ‘দেওয়ানি মস্তানি’, ‘সানসোঁ কো সানসোঁ মে’—এমন অসংখ্য গান শ্রোতাদের হৃদয়ে আজও সমান জনপ্রিয়। সংগীতের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা এবং কণ্ঠের স্বচ্ছতা তাঁকে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছে। কর্মজীবনে একাধিকবার জাতীয় পুরস্কার, ফিল্মফেয়ার সহ বহু সম্মানে ভূষিত হয়েছেন তিনি।
তবে সংগীতমহলের অনেকেই মনে করছেন, প্লেব্যাক থেকে পুরোপুরি বিদায় নেওয়ার সম্ভাবনা আপাতত খুবই কম। বরং আগের তুলনায় বেছে বেছে গান করা, নিজের পছন্দের প্রজেক্টে কাজ করা এবং লাইভ মিউজিককে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার দিকেই হয়তো এগোচ্ছেন তিনি। একজন শিল্পীর কেরিয়ারের নির্দিষ্ট সময়ে এসে কাজের ধরণ বদলানো নতুন কিছু নয় বলেও মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।
অন্যদিকে, ভক্তদের এক বড় অংশের মত—শ্রেয়া ঘোষালের কণ্ঠ ছাড়া ভারতীয় সিনেমার গান যেন অসম্পূর্ণ। তাই তিনি যদি সত্যিই প্লেব্যাকের ব্যস্ততা কিছুটা কমান, তবুও বড় বড় প্রজেক্ট বা বিশেষ গানে তাঁর কণ্ঠ শোনার আশা ছাড়ছেন না সংগীতপ্রেমীরা। সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে, যেখানে অনেকে আবার আশা প্রকাশ করেছেন যে শ্রেয়া ঘোষাল ভবিষ্যতেও সিনেমার গানে নিজের জাদুকরী কণ্ঠে শ্রোতাদের মুগ্ধ করে যাবেন।
সব মিলিয়ে, আপাতত বিষয়টি পুরোপুরি জল্পনার পর্যায়েই রয়েছে। তবে শ্রেয়া ঘোষালের সাম্প্রতিক মন্তব্য সংগীতমহলে যে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে, তা বলাই যায়। ভবিষ্যতে তিনি কোন পথে নিজের সংগীতজীবনকে এগিয়ে নিয়ে যান, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁর অসংখ্য অনুরাগী।