অন্যদিকে একই মঞ্চে অভিনয়ের জোরে দর্শক ও সমালোচকদের মন জয় করে নিয়েছেন Jessie Buckley। থিয়েটার, টেলিভিশন এবং বড় পর্দা—তিন ক্ষেত্রেই সমান দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে ইতিমধ্যেই নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন এই অভিনেত্রী। তাঁর অভিনয়ের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল চরিত্রের গভীরে প্রবেশ করার ক্ষমতা এবং আবেগকে অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তোলা। এবারের অস্কারে তাঁর অভিনয় সেই দক্ষতারই নতুন স্বীকৃতি এনে দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, জেসি বাকলের অভিনয়ে যে আন্তরিকতা ও শক্তি দেখা যায়, তা খুব কম অভিনেত্রীর মধ্যেই দেখা যায়। চরিত্রের আবেগ, দ্বন্দ্ব এবং মানসিক জটিলতাকে তিনি এমনভাবে ফুটিয়ে তোলেন যে দর্শক সহজেই সেই গল্পের সঙ্গে একাত্ম হয়ে পড়েন।
চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, এবারের অস্কার শুধুমাত্র পুরস্কার ঘোষণার অনুষ্ঠান নয়, বরং বিশ্ব চলচ্চিত্রে পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবেও চিহ্নিত হয়ে থাকবে। বহু বছর ধরে হলিউডে নারীদের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে যে আলোচনা চলছিল, এবার সেই আলোচনার বাস্তব প্রতিফলন দেখা গেল এই মঞ্চে। অটাম ডুরাল্ডের মতো একজন সিনেম্যাটোগ্রাফারের সাফল্য যেমন প্রযুক্তিনির্ভর বিভাগে নারীদের উপস্থিতিকে শক্তিশালী বার্তা দিল, তেমনি জেসি বাকলের সাফল্য প্রমাণ করল শক্তিশালী অভিনয় ও প্রতিভার সামনে সব বাধাই একসময় ভেঙে পড়ে।
চলচ্চিত্র মহলের অনেকেই মনে করছেন, এই দুই শিল্পীর অর্জন আগামী দিনে আরও অনেক তরুণী শিল্পীকে চলচ্চিত্র জগতে এগিয়ে আসার অনুপ্রেরণা দেবে। বিশেষ করে সিনেম্যাটোগ্রাফির মতো বিভাগে, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে নারীদের সংখ্যা খুবই কম ছিল, সেখানে অটাম ডুরাল্ডের সাফল্য নতুন প্রজন্মের কাছে এক বড় উদাহরণ হয়ে থাকবে। একইভাবে জেসি বাকলের অভিনয় প্রমাণ করে দিয়েছে, শক্তিশালী গল্প ও গভীর চরিত্রের মাধ্যমে একজন অভিনেত্রী কীভাবে বিশ্বমঞ্চে নিজের জায়গা তৈরি করতে পারেন।
সব মিলিয়ে এবারের Academy Awards যেন শুধু চলচ্চিত্রের শ্রেষ্ঠত্ব উদযাপনের অনুষ্ঠান নয়, বরং নারীদের সৃজনশীল শক্তি ও প্রতিভারও এক উজ্জ্বল উদযাপন হয়ে উঠল। অটাম ডুরাল্ড এবং জেসি বাকলের এই ঐতিহাসিক সাফল্য আগামী দিনে বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবেই স্মরণীয় হয়ে থাকবে।