লক্ষ্মীবারে শেয়ার বাজারে বড় ধস! ৫ সেকেন্ডে উধাও ৫ লক্ষ কোটি, সেনসেক্স ৯০০ ও নিফটি ৩০০ পয়েন্ট নিম্নমুখী
লক্ষ্মীবারের সকালেই দালাল স্ট্রিটে নেমে এল আতঙ্কের ছায়া। বাজার খোলার কিছুক্ষণের মধ্যেই হঠাৎ তীব্র বিক্রির চাপে কেঁপে উঠল ভারতীয় শেয়ার বাজার। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বাজার থেকে প্রায় ৫ লক্ষ কোটি টাকার সম্পদ উধাও হয়ে যায় বলে জানা গেছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি করে শেয়ার বিক্রির প্রবণতা তৈরি হওয়ায় দ্রুত নীচের দিকে নামতে থাকে সূচক। দিনের শুরুতেই প্রায় ৯০০ পয়েন্ট পর্যন্ত ধস নামে সেনসেক্সে এবং নিফটি প্রায় ৩০০ পয়েন্ট পর্যন্ত পড়ে যায়। বাজার খোলার পর থেকেই লাল রঙে ঢেকে যায় প্রায় সব সেক্টরের শেয়ার।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাই এই পতনের প্রধান কারণ। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং বিশ্ব অর্থনীতিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। তার প্রভাব সরাসরি পড়েছে ভারতীয় শেয়ার বাজারেও। বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (FII) এদিন বড় অঙ্কের শেয়ার বিক্রি করায় বাজারে চাপ আরও বেড়ে যায়। এর ফলে সেনসেক্স ও নিফটির বড় বড় কোম্পানির শেয়ারের দাম দ্রুত কমতে শুরু করে।
ব্যাংকিং, আইটি, অটো, মেটাল এবং রিয়েল এস্টেট—প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরের শেয়ারে বড় ধরনের পতন দেখা যায়। বিশেষ করে বড় ব্যাঙ্ক এবং আইটি সংস্থাগুলির শেয়ারেই সবচেয়ে বেশি চাপ লক্ষ্য করা যায়। অনেক বিনিয়োগকারী আতঙ্কে শেয়ার বিক্রি করতে শুরু করায় বাজারে একপ্রকার চেইন রিঅ্যাকশন তৈরি হয় এবং পতনের গতি আরও বাড়ে। বাজার খোলার কিছুক্ষণের মধ্যেই বহু সংস্থার শেয়ারের দাম কয়েক শতাংশ পর্যন্ত নেমে যায়।
এদিন মিডক্যাপ এবং স্মলক্যাপ শেয়ারগুলিও রেহাই পায়নি। বেশ কিছু মাঝারি ও ছোট সংস্থার শেয়ারে তীব্র পতন দেখা যায়। ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। বাজারের সামগ্রিক মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন দ্রুত কমে যাওয়ায় কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিপুল অঙ্কের সম্পদ উধাও হয়ে যায়।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শেয়ার বাজারে এই ধরনের ওঠানামা অস্বাভাবিক নয়। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকেতের উপর বাজার অনেক সময় নির্ভর করে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সুদের হার, মুদ্রাস্ফীতি এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব ভারতীয় বাজারেও পড়ছে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, স্বল্পমেয়াদী ওঠানামা দেখে আতঙ্কিত হয়ে সিদ্ধান্ত না নেওয়াই ভালো। দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারীদের ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার কথা বলা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়া জরুরি বলেও মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তবে আপাতত দালাল স্ট্রিটে যে চাপা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা বিনিয়োগকারীদের স্পষ্ট ভাবেই চিন্তায় ফেলেছে।