পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতের অর্থনীতিতে, আর তারই জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের তুলনায় আরও দুর্বল হয়ে পড়ল ভারতীয় মুদ্রা, সাম্প্রতিক লেনদেনে টাকার মান একধাক্কায় নেমে গিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে অর্থনৈতিক মহলে, বিশেষজ্ঞদের মতে ইরান-ইজরায়েল সংঘাত ঘিরে অনিশ্চয়তা, তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝোঁক—এই তিনটি বড় কারণেই টাকার উপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে, বাজার বিশ্লেষকদের একাংশ জানাচ্ছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লেই ভারতের আমদানি খরচ বেড়ে যায়, ফলে ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পায় এবং স্বাভাবিকভাবেই টাকার মান কমে যায়, এদিন আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে ডলারের বিপরীতে টাকার দর উল্লেখযোগ্যভাবে পড়ে গিয়ে সাম্প্রতিক সময়ের সর্বনিম্ন স্তরের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে, যা আমদানি নির্ভর খাতগুলির জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে, একই সঙ্গে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি এড়াতে ভারতীয় বাজার থেকে লগ্নি তুলে নিচ্ছেন বলেও খবর, যার ফলে শেয়ারবাজারেও চাপ তৈরি হচ্ছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া বাজারে হস্তক্ষেপ করতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হলেও এখনও
পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক সতর্ক অবস্থানেই রয়েছে, অর্থনীতিবিদদের মতে যদি পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হয়, তাহলে আগামী দিনগুলিতে টাকার আরও দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, যার প্রভাব পড়তে পারে জ্বালানির দাম, আমদানি ব্যয় এবং সামগ্রিকভাবে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচের উপর, সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক অস্থিরতার ঢেউ যে এবার সরাসরি ভারতের মুদ্রাবাজারে আছড়ে পড়েছে, তা বলাই বাহুল্য, আর এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক বৃদ্ধির উপরও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা, ফলে এখনই পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে কেন্দ্র ও আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলি, পাশাপাশি বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে প্রয়োজন হলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলছে বিভিন্ন মহল থেকে।