পঞ্জিকা অনুযায়ী, চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের নবমী তিথি শুরু হবে ২৬ মার্চ দুপুরের পর এবং তা চলবে ২৭ মার্চ পর্যন্ত। অর্থাৎ নবমী তিথি দু’দিন জুড়েই পড়ছে। এই কারণেই সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে যে ঠিক কোন দিনটি রাম নবমী হিসেবে পালিত হবে। তবে ধর্মীয় শাস্ত্র ও পঞ্জিকার নিয়ম অনুযায়ী ভগবান রামের জন্ম মুহূর্ত ধরা হয় মধ্যাহ্নকালকে কেন্দ্র করে। যে দিনে মধ্যাহ্নে নবমী তিথি বিরাজমান থাকে, সেই দিনই রাম নবমী পালন করা শ্রেয় বলে মনে করা হয়।
জ্যোতিষী ও পঞ্জিকা বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বছর মধ্যাহ্নের সময় নবমী তিথি প্রধানত ২৭ মার্চ পড়ছে। তাই অধিকাংশ পঞ্জিকা অনুসারে ২৭ মার্চই রাম নবমী পালনের জন্য নির্ধারিত দিন হিসেবে ধরা হচ্ছে। যদিও কিছু জায়গায় ২৬ মার্চ সন্ধ্যার পর থেকেই নবমী তিথি শুরু হওয়ার কারণে সেদিনও আংশিকভাবে ধর্মীয় আচার পালনের কথা বলা হচ্ছে, তবু মূল উৎসব পালিত হবে পরের দিনই।
প্রতি বছরই তিথির সময়ের উপর নির্ভর করে অনেক সময় এমন বিভ্রান্তি তৈরি হয়। কারণ হিন্দু পঞ্জিকার হিসাব চন্দ্রের গতির উপর নির্ভরশীল, ফলে তিথির শুরু ও শেষের সময় অনেক সময় দু’দিনের মধ্যে পড়ে। সেই কারণেই বিভিন্ন বছর রাম নবমী বা অন্যান্য উৎসবের তারিখ নিয়ে আলোচনা দেখা যায়।
রাম নবমীর দিন ভোর থেকেই মন্দিরে ভিড় জমাতে শুরু করেন ভক্তরা। অনেকেই এই দিনে উপবাস পালন করেন এবং ভগবান রামের আরাধনায় মগ্ন থাকেন। রামায়ণ পাঠ, নামসংকীর্তন, আরতি এবং বিভিন্ন ধর্মীয় আচার পালনের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপিত হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বড় বড় শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও আয়োজন করা হয়।
সব মিলিয়ে পঞ্জিকার হিসাব ও জ্যোতিষীদের মত অনুযায়ী এ বছর রাম নবমীর মূল উৎসব পালিত হবে ২৭ মার্চ। যদিও নবমী তিথি শুরু হচ্ছে ২৬ মার্চ থেকেই, তবু শাস্ত্র অনুযায়ী মধ্যাহ্নের তিথি বিবেচনা করেই ২৭ মার্চকেই অধিকাংশ স্থানে রাম নবমী হিসেবে পালন করা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে ভক্তদের কাছে স্পষ্ট বার্তা—উৎসবের প্রধান দিন ২৭ মার্চই।