দলীয় সূত্রে খবর, বেশ কয়েকজন পরিচিত বিধায়ককে তাঁদের পুরনো কেন্দ্র থেকে সরিয়ে নতুন কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে। এর মধ্যে এমনও নাম রয়েছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট এলাকায় কাজ করে পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন। হঠাৎ করে তাঁদের আসন বদল করায় স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন উঠছে।
এই রদবদলের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রথমত, অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি ফ্যাক্টর কাটাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন এক জায়গায় থাকার ফলে যে অসন্তোষ তৈরি হয়, তা এড়াতেই নতুন কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে কিছু বিধায়ককে। দ্বিতীয়ত, যেসব কেন্দ্রে দল তুলনামূলকভাবে দুর্বল, সেখানে অভিজ্ঞ মুখকে পাঠিয়ে সংগঠনকে মজবুত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তৃতীয়ত, স্থানীয় সমীকরণও এই সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে অঞ্চলভিত্তিক সামাজিক ও রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার জন্যই এই পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নয়, বৃহত্তর কৌশলগত চিন্তাভাবনাও এখানে কাজ করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের রদবদল ঝুঁকিপূর্ণ হলেও অনেক সময় তা কার্যকর হতে পারে। নতুন কেন্দ্রে গিয়ে প্রার্থীকে আবার নতুন করে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করতে হয়, যা চ্যালেঞ্জিং। তবে সঠিকভাবে কাজ করতে পারলে এর সুফলও মিলতে পারে।
অন্যদিকে, বিরোধীরা এই সিদ্ধান্তকে দলের অন্দরের অসন্তোষের প্রতিফলন বলে কটাক্ষ করেছে। তাদের দাবি, পুরনো কেন্দ্রে দুর্বলতা ঢাকতেই এই রদবদল করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, আসন পরিবর্তনের এই কৌশল যে নির্বাচনের আগে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে, তা স্পষ্ট। এখন দেখার, এই সিদ্ধান্ত ভোটের ফলাফলে কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং প্রার্থীরা নতুন চ্যালেঞ্জে কতটা সফল হন।