পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাসটি বারাসত বাসস্ট্যান্ড থেকে ছেড়ে মধ্যমগ্রাম, বিরাটি, দমদম, বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে দক্ষিণেশ্বরের কাছে গঙ্গা পার করবে। সেখান থেকে বালি, উত্তরপাড়া, হিন্দমোটর ও কোন্নগর হয়ে শেষ পর্যন্ত ডানকুনি পৌঁছবে। এই রুটটি এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে পথের মধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হয়। ফলে শুধু অফিসযাত্রী নয়, ব্যবসায়ী, ছাত্রছাত্রী এবং দৈনন্দিন যাত্রীদের জন্যও এই বাস পরিষেবা যথেষ্ট উপকারী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
পরিবহণ দফতরের এক আধিকারিক জানান, নতুন এই বাস রুট চালুর মূল উদ্দেশ্য হল শহরতলি ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলির মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো। কলকাতার ওপর চাপ কমাতেও এই ধরনের রুট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট সংখ্যক বাস চালানো হবে এবং যাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী ভবিষ্যতে বাসের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। ইতিমধ্যেই সম্ভাব্য রুট ম্যাপ প্রকাশ্যে আসতেই যাত্রীদের মধ্যে আগ্রহ বাড়তে শুরু করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বারাসত ও ডানকুনি—দুটি এলাকাই পরিবহণের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ জংশন। একদিকে বারাসত উত্তর ২৪ পরগনার প্রবেশদ্বার, অন্যদিকে ডানকুনি হল হুগলি ও পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম বড় পরিবহণ কেন্দ্র যেখানে জাতীয় সড়ক, রেলপথ ও শিল্পাঞ্চলের সংযোগ রয়েছে। এই দুই জায়গার মধ্যে সরাসরি বাস পরিষেবা চালু হলে জেলার মধ্যে যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। পাশাপাশি কলকাতা শহরে অপ্রয়োজনীয় ভিড়ও কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
যাত্রীরা মনে করছেন, নতুন এই বাস পরিষেবা নিয়মিত ও সময়নিষ্ঠভাবে চললে তা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতে বড় স্বস্তি এনে দেবে। বিশেষ করে যাঁরা প্রতিদিন অফিস বা কাজের সূত্রে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাতায়াত করেন, তাঁদের জন্য এই রুট কার্যত নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে। এখন পরিবহণ দফতরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সাধারণ মানুষ।