যুদ্ধ কতদিন চালাতে পারবে ইরান? এক নজরে তেহরানের বিশাল অস্ত্র ভাণ্ডার
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমশ বাড়তে থাকা উত্তেজনার আবহে আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন ইরানের সামরিক শক্তির দিকে। সাম্প্রতিক সংঘাত ও পাল্টা হামলার প্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠছে—দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালানোর মতো সামরিক প্রস্তুতি ঠিক কতটা রয়েছে তেহরানের কাছে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান বহু বছর ধরেই নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে তুলেছে। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি, ড্রোন ও আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে তারা এক শক্তিশালী সামরিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারকে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বড় ও উন্নত বলে মনে করা হয়।
ইরানের হাতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ মিসাইল, যেগুলোর পাল্লা কয়েকশো থেকে কয়েক হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এই মিসাইলগুলির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের বহু গুরুত্বপূর্ণ এলাকা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা সম্ভব বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা।
এর পাশাপাশি ড্রোন প্রযুক্তিতেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে ইরান। নজরদারি ড্রোন থেকে শুরু করে আক্রমণাত্মক ড্রোন—সব ক্ষেত্রেই তারা নিজেদের সক্ষমতা বাড়িয়েছে। সাম্প্রতিক সংঘর্ষগুলিতে এই ড্রোন ব্যবহারের উদাহরণও দেখা গেছে।
নৌবাহিনীর ক্ষেত্রেও ইরান বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত নিয়ন্ত্রণে। ছোট কিন্তু দ্রুতগতির যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন এবং মাইন বসানোর সক্ষমতার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটগুলিকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা রয়েছে তাদের।
এছাড়া ইরানের সামরিক কৌশলের একটি বড় দিক হল তাদের আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলি। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইরানপন্থী সশস্ত্র সংগঠন রয়েছে, যারা সংঘাতের সময় তেহরানের পক্ষে অবস্থান নিতে পারে বলে মনে করা হয়।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ শুধু অস্ত্রের ওপর নির্ভর করে না। অর্থনৈতিক শক্তি, আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং সামরিক জোট—সব মিলিয়েই নির্ধারিত হয় যুদ্ধের স্থায়িত্ব।
এই পরিস্থিতিতে ইরানের অস্ত্রভাণ্ডার যতই শক্তিশালী হোক না কেন, বৃহৎ আকারের সংঘাত কতদিন চালানো সম্ভব হবে, তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপরই।