মেয়েদের স্কুলে বিষাক্ত গ্যাস ছড়ানোর নেপথ্যে কারা? চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে
ইরানে একের পর এক মেয়েদের স্কুলে রহস্যজনক হামলার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে গোটা দেশে। বিভিন্ন শহরের স্কুলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়তে শুরু করে শতাধিক ছাত্রী। কোথাও দেখা যায় তীব্র শ্বাসকষ্ট, কোথাও আবার মাথা ঘোরা, বমি ও অজ্ঞান হয়ে পড়ার মতো উপসর্গ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে বহু স্কুলের সামনে অ্যাম্বুল্যান্সের সারি দেখা যায়, আর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয় অসংখ্য ছাত্রীকে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অনেক জায়গায় স্কুলের করিডোরে একের পর এক অসুস্থ ছাত্রীর দৃশ্য দেখে আতঙ্কে কেঁপে ওঠেন শিক্ষক ও অভিভাবকেরা। কিছু ক্ষেত্রে ছাত্রীদের মাটিতে শুয়ে থাকতে দেখা যায়, যা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ ছবি ও ভিডিও।
ঘটনার তদন্তে নেমে ইরানের প্রশাসন প্রথমে বিষয়টিকে ‘রহস্যজনক অসুস্থতা’ বলে উল্লেখ করলেও পরে সামনে আসে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তকারীরা সন্দেহ করছেন, একাধিক স্কুলে ইচ্ছাকৃতভাবে বিষাক্ত বা ক্ষতিকর গ্যাস ছড়ানো হয়েছিল। এই গ্যাসের প্রভাবে ছাত্রীদের শরীরে তাৎক্ষণিক অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দেয়। তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, কিছু উগ্রপন্থী গোষ্ঠী মেয়েদের স্কুলে পড়াশোনা বন্ধ করানোর উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়ে থাকতে পারে। যদিও কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত করে কিছু জানানো হয়নি।
এই ঘটনার পর থেকেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন অভিভাবক ও সাধারণ মানুষ। বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভও দেখা গিয়েছে। বহু পরিবার তাদের মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা বাড়াতে ইরান সরকার ইতিমধ্যেই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। একইসঙ্গে গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এতগুলো স্কুলে একই ধরনের ঘটনা ঘটায় উদ্বেগ বাড়ছে দেশজুড়ে। রহস্যময় এই হামলার নেপথ্যে কারা, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ইরানের রাজনীতি ও সমাজজুড়ে।