মুখ্য সমাচার :
সতর্কবার্তা! যুবসাথী প্রকল্পের টাকা পেতে আবেদনপত্রে এই তথ্যগুলি ঠিক আছে তো? নারীর পরিচয় কি শুধু সমাজের দেওয়া নাম? নিরাপত্তার সন্ধানে নারী: শহরের আলো–ছায়ার গল্প ও আলোর পথযাত্রী গাড়ি আটকের পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বদলি সার্জেন্ট, পুলিশ মহলে চাঞ্চল্য ও জল্পনা

অকথ্য অত্যাচারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক সেলিনা জেটলি, সন্তানদের হারানোর বেদনায় আবেগঘন বার্তা

ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি, মানসিক নিপীড়ন ও মাতৃত্বের শোকের কথা তুলে সমাজকে বড় বার্তা অভিনেত্রীর অকথ্য অত্যাচার, দীর্ঘদিনের মানসিক নিপীড়ন এবং সন্তানকে হারানোর অসহনীয় যন্ত্রণা—এই তিনের বিরুদ্ধে সরব হলেন বলিউড অভিনেত্রী Celina Jaitly। সাম্প্রতিক এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে নিজের জীবনের অত্যন্ত কঠিন সময়ের কথা প্রকাশ্যে এনে তিনি জানিয়েছেন, জীবনের এক ভয়াবহ অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে, যার ক্ষত এখনও ভোলার নয়। অভিনেত্রীর কথায়, একজন মায়ের কাছে সন্তানের মৃত্যু বা হারিয়ে যাওয়া এমন এক শোক, যার ব্যথা কোনও ভাষায় পুরোপুরি প্রকাশ করা যায় না। সেই ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডির সঙ্গে জুড়ে ছিল নানা ধরনের অপমান, মানসিক অত্যাচার এবং অসহায় পরিস্থিতি, যা তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে দিয়েছিল। পোস্টে সেলিনা লিখেছেন, জীবনের এমন সময়ও এসেছে যখন মনে হয়েছে চারপাশে কেউ নেই, নেই কোনও সহায়তা বা সমর্থন। কিন্তু সেই অন্ধকার সময়ের মধ্যেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরব থাকা মানে সেই অন্যায়কে আরও শক্তিশালী করে তোলা। তাই দীর্ঘ নীরবতার পর তিনি নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে আনতে চান, যাতে সমাজে যারা একই ধরনের অত্যাচারের শিকার হচ্ছেন, তারা সাহস পায় কথা বলতে। তাঁর দাবি, বহু মানুষ এখনও সামাজিক লজ্জা বা পারিবারিক চাপে নিজেদের কষ্ট লুকিয়ে রাখেন, অথচ সেই নীরবতাই অত্যাচারকে আরও দীর্ঘায়িত করে। 
Pressman
08 March, 2026

সন্তানদের হারানোর প্রসঙ্গ তুলতে গিয়ে অভিনেত্রী জানান, সেই শোক তাঁর জীবনে এমন এক শূন্যতা তৈরি করেছে যা কখনও পূরণ হবে না। তবু সেই গভীর বেদনা থেকেই তিনি শক্তি খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাঁর মতে, জীবনের সবচেয়ে বড় আঘাতও মানুষকে নতুন করে দাঁড়ানোর শক্তি দিতে পারে, যদি কেউ ভেঙে না পড়ে। এই কারণেই তিনি এখন আরও বেশি করে মানবিকতা, সহমর্মিতা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব নিয়ে কথা বলতে চান।
সেলিনার এই আবেগঘন পোস্ট মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। বহু অনুরাগী তাঁর সাহসের প্রশংসা করেছেন এবং মন্তব্যে লিখেছেন, এত বড় ব্যক্তিগত যন্ত্রণা প্রকাশ্যে আনা সত্যিই কঠিন। অনেকেই আবার বলেছেন, তাঁর এই বক্তব্য সমাজে অত্যাচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে নতুন করে সচেতনতা তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে বিনোদন জগতের অনেক তারকাও তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে সমর্থন জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্যক্তিগত জীবনের এমন সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে খোলাখুলি কথা বলা এখনও খুব সহজ নয়, বিশেষ করে জনসমক্ষে থাকা ব্যক্তিদের জন্য। কিন্তু সেলিনা জেটলির এই বক্তব্য আবারও মনে করিয়ে দিল, খ্যাতির আড়ালেও মানুষের জীবনে গভীর যন্ত্রণা লুকিয়ে থাকতে পারে। সেই যন্ত্রণা থেকেই উঠে আসা প্রতিবাদ অনেক সময় সমাজে বড় বার্তা পৌঁছে দিতে পারে। আর ঠিক সেই বার্তাই এবার সামনে আনলেন সেলিনা—অন্যায় যত বড়ই হোক, নীরবতা নয়, প্রতিবাদই হওয়া উচিত সবচেয়ে বড় শক্তি।
Follow Us ই-পেপার