সূত্রের দাবি, নওয়াজউদ্দিন অভিনয় করবেন এমন এক জটিল ও বহুস্তরীয় চরিত্রে, যিনি তুম্বাড গ্রামের অতীত ইতিহাস, ‘হাস্তর’-এর অভিশাপ এবং গুপ্ত সম্পদের রহস্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। চরিত্রটি নাকি একাধারে অনুসন্ধানী, অন্যদিকে ক্ষমতা ও লোভে তাড়িত—যেখানে নৈতিকতার সীমানা বারবার প্রশ্নের মুখে পড়বে। প্রথম ছবিতে যেমন মানবলোভের প্রতীক হয়ে উঠেছিল সোনার লোভ, সিক্যুয়েলে সেই লোভের উত্তরাধিকার এবং তার বিস্তারই হবে মূল উপজীব্য। আর এই অন্ধকার মনস্তত্ত্বকে পর্দায় জীবন্ত করে তুলতে নির্মাতাদের প্রথম পছন্দ নওয়াজউদ্দিন।
চিত্রনাট্যকারদের মতে, দ্বিতীয় কিস্তিতে শুধু ভয় নয়, থাকবে আরও গভীর মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন। তুম্বাড গ্রামের ইতিহাস, দেবতা ‘হাস্তর’-এর পৌরাণিক উৎস এবং অভিশাপের প্রকৃত বিস্তার—সব মিলিয়ে তৈরি হচ্ছে এক বৃহত্তর বিশ্ব। শোনা যাচ্ছে, নওয়াজউদ্দিনের চরিত্রটি হয়তো সেই ব্যক্তি, যিনি অতীতের অন্ধকারের দরজা খুলে দেন এবং ঘটনাপ্রবাহকে নতুন বিপদের দিকে ঠেলে দেন। তাঁর উপস্থিতিতে গল্পে যুক্ত হবে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরও—যেখানে ব্যক্তিগত লোভ বৃহত্তর ধ্বংসের কারণ হয়ে ওঠে।
প্রযোজনা সংস্থার ঘনিষ্ঠ মহলের খবর, ভিএফএক্স ও প্রোডাকশন ডিজাইনে এবার আরও বড় মাপের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ছবির বৃষ্টিভেজা, মলিন, ক্লস্ট্রোফোবিক পরিবেশ দর্শকদের শিহরিত করেছিল। এবার সেই আবহ আরও বিস্তৃত হবে, সঙ্গে থাকবে নতুন লোকেশন ও বৃহত্তর স্কেল। মহারাষ্ট্রের দুর্গম অঞ্চলেই নাকি বেশিরভাগ শুটিং হওয়ার সম্ভাবনা। প্রযুক্তিগত দিক থেকেও ছবিটিকে আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছে দিতে উদ্যোগী নির্মাতারা।
নওয়াজউদ্দিন সিদ্ধিকি বরাবরই চরিত্রাভিনয়ে নিজের আলাদা ছাপ রেখেছেন—‘গ্যাংস অফ ওয়াসেপুর’ থেকে শুরু করে একাধিক সমালোচকপ্রশংসিত ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। তাই ‘তুম্বাড ২’-এর মতো গাঢ়, অন্ধকার ও দার্শনিক আখ্যানের কেন্দ্রে তাঁকে পাওয়া মানেই প্রত্যাশা বহুগুণ বেড়ে যাওয়া। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, তবুও ফিল্মি মহলে জোর চর্চা—এই সিক্যুয়েল হতে চলেছে বলিউডের হরর-ফ্যান্টাসি ধারার নতুন মাইলফলক।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ‘তুম্বাড ২’ শুধু একটি সিক্যুয়েল নয়, বরং এক অন্ধকার উত্তরাধিকারীর গল্প—যেখানে লোভ, ভয়, পৌরাণিক রহস্য আর মানবমনস্তত্ত্বের গভীর সংঘাত এক সুতোয় বাঁধা।