দোল মানেই শুধু আবিরের রং নয়, স্মৃতির ভাঁজে জমে থাকা ছোটবেলার উচ্ছ্বাসও। এক সময় পাড়ার মাঠে বা বাড়ির ছাদে লাঠি হাতে ‘ওরে গৃহবাসী’ গানের তালে নাচত কিশোর-কিশোরীরা। সেই লাঠিগুলোই যেন হয়ে উঠত রঙিন দিনের প্রতীকী অস্ত্র—আনন্দের, একতার আর উৎসবের শক্তির বহিঃপ্রকাশ।
সকালের সূর্য উঠতেই শুরু হত প্রস্তুতি। কেউ রং মিশিয়ে রাখছে, কেউ সাজাচ্ছে সাদা পাঞ্জাবি বা শাড়ি। তারপর শুরু হত দল বেঁধে নাচ। লাঠির ঠুকঠাক শব্দ আর গানের ছন্দ মিলিয়ে তৈরি হত এক অনন্য পরিবেশ। নাচের ভঙ্গিমায় থাকত গ্রামীণ লোকসংস্কৃতির ছোঁয়া, সঙ্গে রবীন্দ্রসঙ্গীতের আবেগমাখা আবেদন।
দোলের দিন এই লাঠিনাচ ছিল নিছক বিনোদন নয়, বরং এক ধরনের ঐক্যের বার্তা। পাড়ার বড়রা শিখিয়ে দিতেন তাল-লয়, ছোটরা তা অনুসরণ করে তৈরি করত নিজস্ব ছন্দ। কারও হাতে বাঁশের লাঠি, কারও হাতে রঙিন কাপড় বাঁধা কাঠি—সব মিলিয়ে যেন রঙিন যুদ্ধের মঞ্চ, যেখানে জয়-পরাজয় নেই, আছে শুধু হাসি আর বন্ধুত্ব।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই চিত্র অনেকটাই বদলেছে। এখন ডিজে সাউন্ড আর আধুনিক গানের দাপটে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী লাঠিনাচ। তবু অনেক এলাকায় এখনও দেখা যায় সেই পুরনো দিনের আবহ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা। নতুন প্রজন্মও আগ্রহ দেখাচ্ছে লোকঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে।
দোলের রং মুছে যায়, কিন্তু লাঠি হাতে ‘ওরে গৃহবাসী’ নাচের স্মৃতি থেকে যায় চিরকাল। সেই লাঠিগুলো আজ আর অস্ত্র নয়, বরং এক টুকরো শৈশবের প্রতীক—যা মনে করিয়ে দেয়, উৎসব মানে শুধু রং নয়, হৃদয়ের মিলনও।