মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তাদের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনও দেশ বা শক্তির উপস্থিতি তারা বরদাস্ত করবে না। বিশেষ করে সামরিক জাহাজ বা সন্দেহজনক গতিবিধি থাকা বিদেশি নৌযানগুলিকে হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশ না করার সতর্কবার্তা দিয়েছে তেহরান। ইরানের এই অবস্থান সামনে আসতেই আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা, কারণ বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তেল সরবরাহ এই প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথ ঘিরে কোনও উত্তেজনা তৈরি হলে তার প্রভাব সরাসরি পড়তে পারে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে।
ইরানের তরফে দাবি করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু বিদেশি নৌবাহিনীর গতিবিধি তাদের নজরে এসেছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। সেই কারণেই তারা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—হরমুজ প্রণালীতে যে কোনও ধরনের উত্তেজনামূলক বা সামরিক তৎপরতা মেনে নেওয়া হবে না। তেহরান আরও জানিয়েছে, প্রণালীর নিরাপত্তা রক্ষা করা তাদের অধিকার এবং প্রয়োজনে তারা কঠোর পদক্ষেপ নিতেও পিছপা হবে না। এই ঘোষণার পরই কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়তে শুরু করেছে বিভিন্ন দেশের মধ্যে।
এদিকে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তৎপর হয়েছে ভারতও। সূত্রের খবর, ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর দ্রুত ইরানের শীর্ষ কূটনৈতিক মহলের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। ওই আলোচনায় হরমুজ প্রণালীতে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।
একই সঙ্গে ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। কারণ এই পথ দিয়েই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও পণ্য পরিবহন হয় ভারতের জন্য।
কূটনৈতিক মহলের মতে, হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক তেলের দামে এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যে। তাই পরিস্থিতি যাতে আর না বাড়ে, তার জন্যই সক্রিয়ভাবে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়াচ্ছে ভারতসহ একাধিক দেশ। আপাতত পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে দিল্লি। তবে তেহরানের কড়া বার্তা এবং তার পরপরই ভারতের কূটনৈতিক উদ্যোগ—এই দুই ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।