মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আঁচ, কুয়েতে বিপাকে দুই বাঙালি যুবক
ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গোটা মধ্যপ্রাচ্য। ইরান ও পশ্চিমি শক্তির মধ্যে টানাপোড়েনের জেরে আকাশপথে কড়াকড়ি, সীমান্তে নজরদারি এবং একাধিক দেশের সতর্কতা জারি হয়েছে। তারই প্রভাব পড়েছে উপসাগরীয় দেশগুলিতেও। এই অস্থির পরিস্থিতির মাঝেই কুয়েতে কর্মরত বাংলার দুই যুবক দেশে ফিরতে না পেরে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।
তাঁদের পরিবারের দাবি, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিমান পরিষেবা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, ভিসা সংক্রান্ত জটিলতাও তৈরি হয়েছে, ফলে তাঁরা কার্যত আটকে পড়েছেন বিদেশের মাটিতে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক বছর আগে কাজের সূত্রে কুয়েতে গিয়েছিলেন পূর্ব মেদিনীপুর ও উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দা ওই দুই যুবক। নির্মাণ সংস্থায় কর্মরত থাকলেও সাম্প্রতিক অস্থিরতায় কাজ প্রায় বন্ধ। সংস্থার তরফে ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি। এদিকে বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা-মা, কারও ছোট সন্তান—চিন্তায় প্রহর গুনছেন সকলে। ভিডিও বার্তায় ওই যুবকদের আর্জি, দ্রুত তাঁদের দেশে ফেরাতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার উদ্যোগী হোক। তাঁরা জানিয়েছেন, আতঙ্কে দিন কাটছে, বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে, রাতের পর বাইরে বেরোনোর উপর অনানুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান ঘিরে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলে সতর্কাবস্থা জারি রয়েছে, বেশ কিছু ফ্লাইট বাতিল বা রুট পরিবর্তন করা হয়েছে। পরিস্থিতির জেরে বহু প্রবাসী ভারতীয় উদ্বিগ্ন। স্থানীয় ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এখনও স্পষ্ট কোনও আশ্বাস মেলেনি বলে দাবি পরিবারের। রাজ্যের তরফে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। প্রয়োজনে পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মাধ্যমে হস্তক্ষেপের আর্জিও জানানো হতে পারে। যুদ্ধের কালো ছায়া যত গাঢ় হচ্ছে, ততই প্রবাসে থাকা সাধারণ মানুষের উৎকণ্ঠা বাড়ছে।