মুখ্য সমাচার :
সতর্কবার্তা! যুবসাথী প্রকল্পের টাকা পেতে আবেদনপত্রে এই তথ্যগুলি ঠিক আছে তো? নারীর পরিচয় কি শুধু সমাজের দেওয়া নাম? নিরাপত্তার সন্ধানে নারী: শহরের আলো–ছায়ার গল্প ও আলোর পথযাত্রী গাড়ি আটকের পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বদলি সার্জেন্ট, পুলিশ মহলে চাঞ্চল্য ও জল্পনা

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে সংকট, ভাড়ায় আগুন কোভিডের পর সবচেয়ে বড় ধাক্কা; বাতিল ১১ হাজারের বেশি উড়ান, ধরাছোঁয়ার বাইরে টিকিটের দাম

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে আকস্মিক বন্ধ ও কড়া বিধিনিষেধের জেরে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে নেমেছে নজিরবিহীন অস্থিরতা। ইউরোপ–এশিয়া রুটের বড় অংশই মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমার উপর নির্ভরশীল। সেই করিডর আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ায় গত কয়েক দিনে বিশ্বজুড়ে ১১ হাজারের বেশি উড়ান বাতিল বা রিরাউট হয়েছে বলে শিল্পমহলের দাবি।
Pressman
03 March, 2026
 ফলাফল—দীর্ঘ রুটে অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ, ফ্লাইট টাইম বেড়ে যাওয়া এবং শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের পকেটে বাড়তি চাপ। কোভিড-পরবর্তী পুনরুদ্ধারের পরে এটাই বিমান শিল্পের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে ভারত–ইউরোপ, দক্ষিণ এশিয়া–উত্তর আমেরিকা এবং উপসাগরীয় দেশগামী রুটে। কলকাতা, দিল্লি ও মুম্বই থেকে দুবাই, দোহা বা ইউরোপের শহরগুলিতে ভাড়া ২৫ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ‘লাস্ট-মিনিট’ টিকিট প্রায় দ্বিগুণ দামে বিকোচ্ছে। ট্রাভেল এজেন্টদের কথায়, বিকল্প রুটে উড়তে গিয়ে ২ থেকে ৪ ঘণ্টা বেশি সময় লাগছে; ফলে বিমানের রোটেশন কমে যাচ্ছে, একই বহরে কম ট্রিপ হচ্ছে—যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে আসনসংখ্যা ও দামে।
এয়ারলাইন্সগুলিও চাপে। দীর্ঘ রুটে জ্বালানি খরচ বেড়েছে, ক্রু ডিউটি আওয়ারসের সীমা মেনে চলতে অতিরিক্ত স্টপেজ বা ক্রু-চেঞ্জের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। কিছু সংস্থা সাময়িক ভাবে নির্দিষ্ট রুট স্থগিত রেখেছে। শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে গ্রীষ্মের পিক সিজনে ভাড়া আরও বাড়তে পারে। ইতিমধ্যে বহু যাত্রী রিফান্ড, রিবুকিং বা ভাউচারের জন্য আবেদন করেছেন; তবে বিকল্প আসন সীমিত হওয়ায় অনিশ্চয়তা কাটছে না।
সরকারি স্তরেও তৎপরতা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন দেশের সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা মূল্যায়ন করে নতুন রুটিং অনুমোদন দিচ্ছে। ভারতীয় যাত্রীদের জন্য উপসাগরীয় হাবগুলির মাধ্যমে ট্রানজিট পরিকল্পনায় বদল আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ট্রাভেল ইন্ডাস্ট্রি বলছে, যাঁদের ভ্রমণ জরুরি নয় তাঁরা কিছুটা অপেক্ষা করলে ভাল; আর যাঁদের যেতেই হবে, তাঁদের আগে থেকে বুকিং করে ভাড়া ‘লক’ করে রাখা বুদ্ধিমানের।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আকাশসীমা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাজারে দামের চাপ বজায় থাকবে। কোভিড-পরবর্তী সময়ে যেখানে ধীরে ধীরে স্থিতি ফিরছিল, সেখানে এই নতুন ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বিমান শিল্পকে আবারও কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলল। যাত্রীদের জন্য বার্তা একটাই—ভ্রমণের আগে রুট, সময় ও রিফান্ড নীতির খুঁটিনাটি জেনে তবেই টিকিট কাটুন; কারণ আপাতত আকাশপথে অনিশ্চয়তার মেঘ ঘন।
Follow Us ই-পেপার