যুদ্ধের উত্তেজনায় তেলের আগুন, ভারতে কি বাড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম?
আন্তর্জাতিক অস্থিরতার জেরে অপরিশোধিত তেলের দামে ফের ঊর্ধ্বগতি। মধ্যপ্রাচ্যকে ঘিরে যুদ্ধ আবহ তৈরি হতেই বিশ্ববাজারে তেলের ফিউচার দামে লাফ দেখা গিয়েছে। জ্বালানির এই ঊর্ধ্বগতি সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশের অর্থনীতিতে—এমন আশঙ্কাই করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভারত তার চাহিদার বড় অংশই বিদেশ থেকে আমদানি করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেই চাপ পড়ে দেশের আমদানি বিলের উপর। এর প্রভাব ধীরে ধীরে পৌঁছে যায় পরিবহণ খরচে। আর পরিবহণ ব্যয় বাড়লে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য—চাল, ডাল, চা থেকে শুরু করে সবজির দামেও বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি মুদ্রাস্ফীতিকে প্রভাবিত করে। পণ্য পরিবহণের পাশাপাশি কৃষিক্ষেত্রেও ডিজেল ও সার ব্যবহারের খরচ বেড়ে যায়। ফলে উৎপাদন খরচ বাড়লে বাজারে তার প্রভাব পড়া অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে এই প্রভাব দ্রুত দৃশ্যমান হতে পারে।
তবে কেন্দ্রীয় সরকারের একাংশের দাবি, পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত মজুত এবং বিকল্প আমদানির পথ খোলা রয়েছে। প্রয়োজনে শুল্ক বা কর কাঠামোয় সাময়িক পরিবর্তনের মতো পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে। তাছাড়া, আন্তর্জাতিক বাজারে ওঠানামা সবসময়ই স্থায়ী হয় না—এমন যুক্তিও দিচ্ছেন নীতিনির্ধারকেরা।
বিশেষজ্ঞদের একাংশ আবার সতর্ক করে বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত হলে প্রভাব আরও গভীর হতে পারে। সেই ক্ষেত্রে খুচরো বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়বে।
সব মিলিয়ে তেলের দামের এই ঊর্ধ্বগতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তার উপরই নির্ভর করছে ভারতীয় বাজারে চাল-ডাল-চায়ের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামের ভবিষ্যৎ।