মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ফের চরমে। “শত্রুপক্ষের জাহাজ দেখলেই ধ্বংস করো”—এমন কড়া হুঁশিয়ারি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তৈরি হয়েছে তীব্র উদ্বেগ। ইরানের এই বার্তার জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দামে তাৎক্ষণিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগর ও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথকে ঘিরে বাড়ছে নিরাপত্তা আশঙ্কা।
বিশ্লেষকদের মতে, তেল পরিবহণের জন্য হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের অপরিশোধিত তেল এই পথেই পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে সামান্য উত্তেজনাও আন্তর্জাতিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে অপরিশোধিত তেলের ফিউচার দামে।
আন্তর্জাতিক শিপিং সংস্থাগুলিও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। একাধিক সংস্থা নাকি বিকল্প রুট বিবেচনা করছে এবং নিরাপত্তা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। বীমা প্রিমিয়াম বৃদ্ধির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এর জেরে পরিবহণ খরচ বাড়লে তার প্রভাব পড়তে পারে জ্বালানির খুচরো দামে।
অন্যদিকে কূটনৈতিক মহলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চলছে। একাধিক দেশ সংযমের আহ্বান জানিয়েছে এবং সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি সংঘাতে জড়ালে তার অর্থনৈতিক অভিঘাত বিশ্বজুড়ে পড়বে—বিশেষ করে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলির ওপর।
ভারতের মতো দেশ, যারা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে তেল আমদানি করে, তারাও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। তেলের দামে অস্থিরতা বাড়লে মুদ্রাস্ফীতি ও পরিবহণ খরচে প্রভাব পড়তে পারে।
সব মিলিয়ে ইরানের কড়া বার্তা ঘিরে শুধু রাজনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক উদ্বেগও বাড়ছে। এখন দেখার, কূটনৈতিক উদ্যোগে পরিস্থিতি কত দ্রুত স্থিতিশীল করা যায়, নাকি উত্তেজনা আরও বাড়ে।