মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সমীকরণ? চিনা অস্ত্র নিয়ে জল্পনায় তোলপাড়, কড়া প্রতিক্রিয়া বেজিংয়ের
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির মাঝে নতুন করে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে—ইরান কি সত্যিই চিনা অস্ত্রের সাহায্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে কৌশলগতভাবে এগোচ্ছে? আন্তর্জাতিক মহলের একাংশের দাবি, সাম্প্রতিক সামরিক মহড়া ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের আধুনিকীকরণে বেজিংয়ের প্রযুক্তিগত সহায়তার ছাপ স্পষ্ট। যদিও এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে চিন।
কূটনৈতিক সূত্রের খবর, ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। ড্রোন প্রযুক্তি, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নজরদারি সরঞ্জামে উন্নতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। পশ্চিমি বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এই অগ্রগতির পেছনে চিনা প্রযুক্তি বা উপাদান থাকতে পারে। তবে এই দাবি নিয়ে স্পষ্ট প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
এদিকে বেজিংয়ের তরফে জানানো হয়েছে, তারা সবসময় শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষপাতী এবং কোনও সংঘাতে উসকানি দেওয়া তাদের নীতির পরিপন্থী। চিনা পররাষ্ট্র মন্ত্রকের এক মুখপাত্র বলেন, আন্তর্জাতিক আইন মেনে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা করা হলেও তা কোনও তৃতীয় দেশের বিরুদ্ধে নয়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ানোর অভিযোগও খারিজ করা হয়েছে।
ওয়াশিংটন ও তেল আভিভ অবশ্য পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। তাদের বক্তব্য, ইরানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি গোটা অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগজনক। এর ফলে পারস্য উপসাগর ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ইস্যুতে কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়তে পারে। ইরান-চিন ঘনিষ্ঠতা আন্তর্জাতিক শক্তির ভারসাম্যে কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে। আপাতত জল্পনা-প্রতিজল্পনার মাঝেই উত্তেজনা জিইয়ে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে।