রাজভবনকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে যে একাধিক অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ এবং রাজনৈতিক মন্তব্য সামনে এসেছে, তার আবহেই এই সাক্ষাৎ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ মহল থেকে দাবি করা হয়েছে, কুণাল ঘোষ বহুদিন ধরেই বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন এবং এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সৌজন্য সাক্ষাৎ ছাড়া আর কিছু নয়। তাঁদের বক্তব্য, এই বৈঠককে কেন্দ্র করে অযথা রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে বিরোধী শিবিরের দাবি ভিন্ন। তাদের মতে, রাজভবন বিতর্কের আবহে এমন একটি বৈঠক নিছক কাকতালীয় হতে পারে না। বিরোধীদের অভিযোগ, রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ক্ষমতাসীন দলের এক মুখ্য নেতার সঙ্গে প্রাক্তন রাজ্যপালের সাক্ষাৎ ভবিষ্যতের কোনও রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিতেও পারে। যদিও এই দাবির পক্ষে এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ সামনে আসেনি, তবু রাজনৈতিক মহলের আলোচনায় এই বিষয়টি দ্রুত গুরুত্ব পেতে শুরু করেছে।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাজভবনকে কেন্দ্র করে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে—রাষ্ট্রপতি অপমান বিতর্ক থেকে শুরু করে কেন্দ্র–রাজ্য সম্পর্কের টানাপোড়েন—তার মধ্যেই এই সাক্ষাৎ রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। যদিও এখনও পর্যন্ত কুণাল ঘোষ বা প্রাক্তন রাজ্যপালের তরফে এই বৈঠক নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি, ফলে জল্পনার পরিমাণ আরও বাড়ছে।
সব মিলিয়ে রাজভবনকে ঘিরে উত্তপ্ত রাজনৈতিক আবহের মধ্যে প্রাক্তন রাজ্যপালের সঙ্গে কুণাল ঘোষের এই ‘গোপন’ বৈঠক এখন রাজ্য রাজনীতিতে নতুন কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। এটি নিছক ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ, নাকি ভবিষ্যতের কোনও রাজনৈতিক বার্তার ইঙ্গিত—তা নিয়ে এখন জোর চর্চা চলছে রাজনৈতিক মহলে। আগামী দিনে এই বিষয়টি নিয়ে আরও নতুন তথ্য সামনে আসে কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজ্য রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের।