তৃণমূলের অন্দরমহলের দাবি, দলের সংগঠন এবং প্রশাসনিক বিষয়ে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার কারণেই রাজীবকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দলের একাংশ মনে করছে, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে দল এমন একজন মুখকে সামনে আনতে চেয়েছে যিনি শান্তভাবে কিন্তু দৃঢ়তার সঙ্গে দলের বক্তব্য তুলে ধরতে পারবেন। সেই কারণেই তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রথম অ্যাসাইনমেন্টেই কমিশনের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক রাজীবের জন্য এক বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
এদিকে বিরোধী শিবিরও বিষয়টি নিয়ে নজর রাখছে। তাদের দাবি, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যে কোনও রাজনৈতিক দলের বৈঠক স্বাভাবিক বিষয় হলেও রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে এই বৈঠক বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। বিরোধীদের একাংশের মতে, নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ উঠছে এবং সেই সব বিষয় কমিশনের সামনে কীভাবে তুলে ধরা হয় সেটাই এখন দেখার।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ ক্রমশই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বিভিন্ন ইস্যুতে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে টানাপোড়েন বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে শাসক দলের প্রতিনিধির বৈঠক রাজনৈতিক দিক থেকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে ভোটার তালিকা, বুথ ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং আইনশৃঙ্খলা—এই সব বিষয়ই আগামী নির্বাচনের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নিতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, তৃণমূলের রাজীবের এই প্রথম বড় অ্যাসাইনমেন্ট ঘিরে এখন রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে বাড়ছে কৌতূহল। সোমবারের বৈঠকে কী আলোচনা হয়, কমিশনের তরফে কী বার্তা দেওয়া হয় এবং তৃণমূলের অবস্থান কীভাবে তুলে ধরা হয়—তার ওপর অনেকটাই নির্ভর করবে আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণ। তাই এই বৈঠকের দিকে এখন নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষেরও।