রাষ্ট্রপতির ‘অপমান’ ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ মোদীর, তৃণমূলকে নিশানা করে বললেন— নোংরা রাজনীতি আর ঔদ্ধত্যই শেষ করবে ঘাসফুল শিবির
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্ককে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াল। এই ইস্যুতেই সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এক জনসভা থেকে কড়া ভাষায় তিনি অভিযোগ করেন, দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকা রাষ্ট্রপতির প্রতি অসম্মান দেখানো হয়েছে এবং এই ধরনের আচরণ ভারতীয় গণতন্ত্রের সংস্কৃতির পরিপন্থী। মোদীর বক্তব্য, “নোংরা রাজনীতি আর ঔদ্ধত্যই একদিন তৃণমূলকে শেষ করে দেবে। যারা দেশের রাষ্ট্রপতির সম্মান রাখতে জানে না, মানুষ তাদের কখনও ক্ষমা করবে না।” প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরেই রাজনৈতিক মহলে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও দাবি করেন, দেশের সংবিধান এবং সাংবিধানিক পদগুলির মর্যাদা রক্ষা করা প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব। কিন্তু কিছু দল রাজনৈতিক স্বার্থে সেই মর্যাদাকে আঘাত করছে বলেই অভিযোগ তাঁর। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস ক্রমশ অহংকার ও ক্ষমতার রাজনীতিতে ডুবে যাচ্ছে, যার ফল একদিন তাদেরই ভোগ করতে হবে। তাঁর কথায়, “বাংলার মানুষ সব দেখছেন। যারা সংবিধানকে সম্মান করতে জানে না, তাদের বাংলার মানুষও একদিন জবাব দেবেন।”
প্রধানমন্ত্রীর এই আক্রমণের পর পাল্টা জবাব দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসও। দলের একাধিক নেতা দাবি করেছেন, বিজেপি রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই এই ইস্যুকে সামনে আনছে। তৃণমূলের বক্তব্য, তারা কখনও রাষ্ট্রপতির অসম্মান করেনি এবং বিষয়টিকে ইচ্ছাকৃতভাবে বড় করে দেখানো হচ্ছে। একইসঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে বিভাজনের রাজনীতি করার অভিযোগও তুলেছেন তৃণমূল নেতারা।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই কেন্দ্র-রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনের আগে এই ধরনের ইস্যু আরও বেশি করে সামনে আসতে পারে এবং তা রাজ্যের রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। রাষ্ট্রপতির সম্মান ঘিরে শুরু হওয়া এই বিতর্ক শেষ পর্যন্ত কত দূর গড়ায়, এখন সেটাই দেখার।