মমতার কথায়, কেন্দ্র ও বিরোধী শিবিরের একটি অংশ পরিকল্পিতভাবে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে যাতে মনে হয় রাজ্য সরকার সাংবিধানিক পদগুলিকে অসম্মান করছে। কিন্তু বাস্তবে রাজ্য সরকার সবসময়ই সংবিধান ও রাষ্ট্রপতির প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান দেখিয়ে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “রাষ্ট্রপতিকে অসম্মান করার প্রশ্নই ওঠে না। বাংলার সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক ঐতিহ্যে এই ধরনের আচরণের কোনও জায়গা নেই।” তাঁর দাবি, পুরো বিষয়টি বিকৃত করে তুলে ধরা হচ্ছে এবং একটি মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য।
রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, সাম্প্রতিক এই বিতর্ককে কেন্দ্র করে কেন্দ্র–রাজ্য সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও প্রকাশ্যে চলে এসেছে। রাজ্যপাল ও রাজ্য সরকারের সম্পর্ক আগেও একাধিকবার বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে, আর এবার ‘রাষ্ট্রপতি অপমান’ ইস্যু সেই দ্বন্দ্বকে আরও তীব্র করেছে। বিরোধীদের অভিযোগ, রাজ্য সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে সাংবিধানিক শিষ্টাচার ভঙ্গ করেছে। যদিও সেই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
তৃণমূলের দাবি, ঘটনার দিন রাজ্যপালের কর্মসূচি নিয়েই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। বাগডোগরায় যাওয়ার পরিকল্পনা থাকা সত্ত্বেও শেষ মুহূর্তে নানা রাজনৈতিক বক্তব্য সামনে এনে ঘটনাকে অন্যদিকে ঘোরানো হয়েছে। দলের একাধিক নেতা বলছেন, আসলে বাংলার রাজনৈতিক পরিবেশকে উত্তপ্ত করে তোলাই ছিল এই বিতর্কের মূল উদ্দেশ্য। মুখ্যমন্ত্রীও একই সুরে বলেন, “বাংলার মানুষ সব বোঝেন। মিথ্যা প্রচারে সত্য চাপা পড়ে না।”
এদিকে বিরোধী দলগুলি অবশ্য মুখ্যমন্ত্রীর এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয়। তাদের দাবি, এত বড় সাংবিধানিক ইস্যুতে রাজ্য সরকারের ভূমিকা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। বিজেপি নেতৃত্বের একাংশ ইতিমধ্যেই এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তুলেছে। তাদের বক্তব্য, যদি সত্যিই কোনও প্রশাসনিক ভুল হয়ে থাকে তবে তা সামনে আসা উচিত, আর যদি পরিকল্পিত কিছু ঘটে থাকে তবে তার দায়ও নির্ধারণ করতে হবে।
সব মিলিয়ে ‘রাষ্ট্রপতি অপমান’ ইস্যু এখন বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। একদিকে মুখ্যমন্ত্রীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, অন্যদিকে বিরোধীদের আক্রমণ—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনে এই বিতর্ক আরও বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে যখন কেন্দ্র–রাজ্য সম্পর্ক ইতিমধ্যেই নানা কারণে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।