তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পরই বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হন তাপস দাস। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপির সংগঠনের ভেতরে কোনও ঐক্য নেই এবং সাধারণ কর্মীদের মতামতের কোনও গুরুত্ব দেওয়া হয় না। তাঁর দাবি, দলের ভিতরে একাংশের স্বেচ্ছাচারিতা এবং নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে থাকায় মানুষের জন্য কাজ করা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছিল। এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে গেলে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় থাকা জরুরি, কিন্তু বিজেপিতে থেকে সেই সুযোগ পাওয়া যাচ্ছিল না বলেই অভিযোগ তাঁর। সেই কারণেই তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তাপস দাস। পাশাপাশি তিনি বলেন, আগামী দিনে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে এলাকার উন্নয়নে কাজ করাই তাঁর মূল লক্ষ্য।
তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা নেতৃত্ব এই যোগদানকে বড় রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছে। তাদের দাবি, পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় বিজেপির সংগঠনের ভিত ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং সেই কারণেই একের পর এক জনপ্রতিনিধি শাসকদলের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিজেপির বহু নেতা-কর্মী তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলেও দাবি করেছে শাসকদল। তৃণমূলের মতে, মানুষের স্বার্থে কাজ করার জন্যই অনেকেই এখন বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন।
অন্যদিকে এই ঘটনাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ বিজেপি নেতৃত্ব। তাদের দাবি, ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করতেই তাপস দাস দল ছেড়েছেন এবং এতে বিজেপির সংগঠনের উপর কোনও প্রভাব পড়বে না। বিজেপি নেতাদের বক্তব্য, পূর্ব মেদিনীপুরে দলের সংগঠন যথেষ্ট শক্তিশালী এবং কয়েকজন ব্যক্তির দলত্যাগে সংগঠনের শক্তি কমবে না। বরং আগামী দিনে আরও বেশি করে মানুষের সমর্থন পাবে বিজেপি বলেই তাদের দাবি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পূর্ব মেদিনীপুর দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধী দলনেতা Suvendu Adhikari-এর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সেই জেলাতেই বিজেপির পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যের তৃণমূলে যোগদান স্থানীয় রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে পঞ্চায়েত স্তরের রাজনীতিতে এই ধরনের দলবদল ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে। গ্রামীণ ভোটব্যাঙ্কের উপর তার প্রভাব পড়তে পারে বলেও মনে করছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক। ফলে পটাশপুরের এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা, আর আগামী দিনে এই দলবদল পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।