মুখ্য সমাচার :
সতর্কবার্তা! যুবসাথী প্রকল্পের টাকা পেতে আবেদনপত্রে এই তথ্যগুলি ঠিক আছে তো? নারীর পরিচয় কি শুধু সমাজের দেওয়া নাম? নিরাপত্তার সন্ধানে নারী: শহরের আলো–ছায়ার গল্প ও আলোর পথযাত্রী গাড়ি আটকের পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বদলি সার্জেন্ট, পুলিশ মহলে চাঞ্চল্য ও জল্পনা

ইস্তফার পর প্রথম প্রতিক্রিয়া সিভি আনন্দ বোসের, বললেন ‘সংবিধানের পথেই চলেছি’

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর প্রথমবার মুখ খুললেন সিভি আনন্দ বোস। সংবাদসংস্থা PTI-কে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করার পর ব্যক্তিগত ও নীতিগত কারণেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর কথায়, সংবিধানের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই তিনি সবসময় কাজ করেছেন এবং সেই পথ অনুসরণ করেই রাজ্যপালের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বোস বলেন, “রাজ্যপাল হিসেবে কাজ করা আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানের বিষয় ছিল। এই সময়ে রাজ্যের মানুষ, প্রশাসন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি, যা আমার জীবনের এক বড় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।” সিভি আনন্দ বোস আরও বলেন, দায়িত্বে থাকাকালীন তিনি সবসময় চেষ্টা করেছেন সংবিধানের মর্যাদা রক্ষা করতে এবং রাজ্যের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে শক্তিশালী করতে। বিভিন্ন সময় রাজ্য সরকার এবং প্রশাসনের সঙ্গে নানা বিষয়ে মতপার্থক্য তৈরি হলেও তিনি সবসময় সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই থেকে কাজ করেছেন বলে দাবি করেন। তাঁর মতে, গণতন্ত্রে মতভেদ থাকা স্বাভাবিক, তবে শেষ পর্যন্ত দেশের সংবিধানই সর্বোচ্চ নির্দেশিকা। তাই দায়িত্ব পালনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি সেই নীতিকেই সামনে রেখেছেন।
Pressman
06 March, 2026
ইস্তফার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বোস জানান, জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য কখনও কখনও পুরনো দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানো প্রয়োজন হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, “দেশের সেবায় কাজ করার অনেক পথ রয়েছে। রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আমার কাছে গর্বের, কিন্তু এখন আমি অন্যভাবে দেশের জন্য কাজ করতে চাই।” যদিও ভবিষ্যতে তিনি ঠিক কী ভূমিকা নেবেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।
রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই তাঁর ইস্তফাকে ঘিরে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। অনেকের মতে, কেন্দ্রীয় স্তরে নতুন কোনও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে পারেন সিভি আনন্দ বোস। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গেও তাঁর পদত্যাগের যোগ থাকতে পারে। যদিও এ বিষয়ে সরাসরি কিছু বলতে চাননি বোস। তিনি শুধু জানিয়েছেন, তাঁর সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং দেশের স্বার্থ ও সংবিধানের মর্যাদাকে মাথায় রেখেই তা নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সিভি আনন্দ বোস একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে শিক্ষাক্ষেত্রেও তাঁর হস্তক্ষেপ এবং উদ্যোগ নিয়ে বেশ কয়েকবার আলোচনায় এসেছে রাজভবন। আবার রাজ্য সরকারের সঙ্গে নানা বিষয় নিয়ে মতবিরোধও প্রকাশ্যে এসেছে। তবু দায়িত্বের শেষ পর্যন্ত তিনি সংবিধানের সীমারেখার মধ্যেই থেকে কাজ করার চেষ্টা করেছেন বলে দাবি করেছেন।
ইস্তফার পর তিনি আরও বলেন, রাজ্যের মানুষের কাছ থেকে যে ভালোবাসা এবং সহযোগিতা পেয়েছেন, তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতেও দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করে যেতে চান বলেও জানান তিনি। তাঁর এই সিদ্ধান্তের পর এখন নজর রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের দিকে—পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্যপাল হিসেবে কাকে নিয়োগ করা হয়, সেটাই এখন রাজনৈতিক মহলে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
Follow Us ই-পেপার