ইস্তফার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বোস জানান, জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য কখনও কখনও পুরনো দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানো প্রয়োজন হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, “দেশের সেবায় কাজ করার অনেক পথ রয়েছে। রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আমার কাছে গর্বের, কিন্তু এখন আমি অন্যভাবে দেশের জন্য কাজ করতে চাই।” যদিও ভবিষ্যতে তিনি ঠিক কী ভূমিকা নেবেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।
রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই তাঁর ইস্তফাকে ঘিরে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। অনেকের মতে, কেন্দ্রীয় স্তরে নতুন কোনও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে পারেন সিভি আনন্দ বোস। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গেও তাঁর পদত্যাগের যোগ থাকতে পারে। যদিও এ বিষয়ে সরাসরি কিছু বলতে চাননি বোস। তিনি শুধু জানিয়েছেন, তাঁর সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং দেশের স্বার্থ ও সংবিধানের মর্যাদাকে মাথায় রেখেই তা নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সিভি আনন্দ বোস একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে শিক্ষাক্ষেত্রেও তাঁর হস্তক্ষেপ এবং উদ্যোগ নিয়ে বেশ কয়েকবার আলোচনায় এসেছে রাজভবন। আবার রাজ্য সরকারের সঙ্গে নানা বিষয় নিয়ে মতবিরোধও প্রকাশ্যে এসেছে। তবু দায়িত্বের শেষ পর্যন্ত তিনি সংবিধানের সীমারেখার মধ্যেই থেকে কাজ করার চেষ্টা করেছেন বলে দাবি করেছেন।
ইস্তফার পর তিনি আরও বলেন, রাজ্যের মানুষের কাছ থেকে যে ভালোবাসা এবং সহযোগিতা পেয়েছেন, তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতেও দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করে যেতে চান বলেও জানান তিনি। তাঁর এই সিদ্ধান্তের পর এখন নজর রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের দিকে—পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্যপাল হিসেবে কাকে নিয়োগ করা হয়, সেটাই এখন রাজনৈতিক মহলে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।