খামেনির মৃত্যু জল্পনার মাঝেই কূটনৈতিক তৎপরতা ভারতের ‘অতিথি জাহাজে’ হামলার পর ইরানে ফোন জয়শংকরের, পরিস্থিতি নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিল দিল্লি
ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলপথে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি এবং এ ধরনের হামলা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে, যেখানে ভারতীয় সংযোগ থাকার কথা উঠে আসে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিল্লি দ্রুত পরিস্থিতির ওপর নজরদারি শুরু করে এবং ইরান সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ায়। ফোনালাপে জয়শংকর শান্তি ও স্থিতিশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং বলেন, আঞ্চলিক উত্তেজনা যেন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নৌ-পরিবহণকে প্রভাবিত না করে। একই সঙ্গে ভারতীয় নাবিক ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও জোর দেওয়া হয়।
খামেনির মৃত্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে নানা জল্পনা ছড়ালেও এ বিষয়ে এখনই আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করতে চায়নি ভারত। কূটনৈতিকভাবে সতর্ক অবস্থানই বজায় রেখেছে নয়াদিল্লি। তবে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সেই কারণেই ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে ভারত সরকার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত ও ইরানের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং জ্বালানি, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক কৌশলগত স্বার্থে দুই দেশের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে উত্তেজনা বাড়লে তার প্রভাব ভারতীয় স্বার্থেও পড়তে পারে। সেই কারণেই দ্রুত কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে দিল্লি। জয়শংকরের এই ফোনালাপকে তাই অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
এদিকে খামেনির স্বাস্থ্য ও মৃত্যুকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নানা জল্পনা চললেও ইরানের তরফে এখনও স্পষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি। ফলে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে বিশ্ব রাজনীতিতে। এই প্রেক্ষাপটে ভারত পরিস্থিতির ওপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে এবং প্রয়োজনে কূটনৈতিক উদ্যোগ আরও বাড়াতে পারে বলেই ইঙ্গিত মিলছে।