বছরের প্রথম চন্দ্রগ্রহণ আজ, আকাশে ‘ব্লাড মুন’—শরীরে কি কোনও প্রভাব?
আজ বছরের প্রথম চন্দ্রগ্রহণ। পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ লালচে আভা ধারণ করলে তাকে সাধারণভাবে ‘ব্লাড মুন’ বলা হয়। সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ একই সরলরেখায় এলে পৃথিবীর ছায়া চাঁদের উপর পড়ে—তখনই ঘটে এই জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল দিয়ে সূর্যের আলো বিচ্ছুরিত হয়ে লাল রং বেশি প্রতিফলিত হওয়ায় চাঁদ রক্তিম দেখায়।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে খালি চোখেই এই দৃশ্য দেখা যাবে। বিশেষ চশমার প্রয়োজন হয় না, কারণ এটি সূর্যগ্রহণের মতো চোখের জন্য ক্ষতিকর নয়। শহর ও মফস্বলে অনেক জায়গাতেই মানুষ আকাশের দিকে তাকিয়ে এই বিরল দৃশ্য উপভোগ করতে প্রস্তুত।
তবে প্রশ্ন উঠছে—চন্দ্রগ্রহণে শরীরে কি কোনও প্রভাব পড়ে? বিজ্ঞানীদের মতে, চন্দ্রগ্রহণ একটি স্বাভাবিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া। এর সঙ্গে মানুষের শরীর বা স্বাস্থ্যের সরাসরি কোনও প্রমাণিত সম্পর্ক নেই। অনেক সংস্কৃতিতে গ্রহণ ঘিরে নানা বিশ্বাস প্রচলিত থাকলেও আধুনিক বিজ্ঞান তা সমর্থন করে না।
চিকিৎসকদেরও বক্তব্য, গ্রহণের সময় বিশেষ খাদ্যাভ্যাস বা ঘরে থাকার মতো বিধিনিষেধের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। গর্ভবতী নারী বা অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্যও আলাদা করে সতর্কতার প্রয়োজন নেই—এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে মানসিকভাবে অনেকে গ্রহণকে রহস্যময় বা অশুভ মনে করতে পারেন, যা উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। সেই ক্ষেত্রে সচেতন থাকা এবং সঠিক তথ্য জানা জরুরি।
সব মিলিয়ে ‘ব্লাড মুন’ এক আকর্ষণীয় মহাজাগতিক দৃশ্য, যা উপভোগ করার সুযোগ বছরে খুব বেশি আসে না। আকাশ পরিষ্কার থাকলে আজকের এই চন্দ্রগ্রহণ দেখার সুযোগ হাতছাড়া না করাই ভালো। বিজ্ঞান বলছে, ভয় নয়—জানাই হোক আসল শক্তি।