লাল গাভীর জন্মে কি সত্যিই আসন্ন মহাপ্রলয়? বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণী ঘিরে নতুন বিতর্ক
ইজরায়েলে সম্প্রতি লাল রঙের একটি গাভীর জন্ম ঘিরে বিশ্বজুড়ে নতুন করে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা ও বিতর্ক। বহু ধর্মবিশ্বাসীর মতে, এই ‘রেড হেফার’ বা লাল গাভীর জন্ম বাইবেলে উল্লেখিত এক গুরুত্বপূর্ণ ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে জড়িত, যা পৃথিবীর শেষ সময় বা মহাপ্রলয়ের পূর্বাভাস হতে পারে বলেও কেউ কেউ দাবি করছেন। ফলে ঘটনাটি সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে ধর্মীয় মহল, গবেষক ও ইতিহাসবিদদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
বাইবেলের পুরাতন নিয়মের ‘বুক অফ নাম্বার্স’-এ লাল গাভীর বিশেষ গুরুত্বের উল্লেখ রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সম্পূর্ণ লাল রঙের এবং শরীরে অন্য কোনও রঙের দাগবিহীন একটি গাভী ধর্মীয় শুদ্ধিকরণ আচার বা পবিত্র অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহৃত হত। ইহুদি ধর্মীয় প্রথা অনুযায়ী, এমন গাভী অত্যন্ত বিরল এবং এটি বিশেষ এক ধর্মীয় আচার পালনের জন্য অপরিহার্য বলে মনে করা হয়। অনেক ধর্মতাত্ত্বিক মনে করেন, এই গাভীর ছাই ব্যবহার করেই প্রাচীন কালে মন্দিরে শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হত।
ধর্মীয় ইতিহাস অনুযায়ী, প্রাচীন ইসরায়েলে প্রথম ও দ্বিতীয় মন্দিরের সময় মাত্র কয়েকবারই এমন নিখুঁত লাল গাভীর উল্লেখ পাওয়া গেছে। ইহুদি ঐতিহ্য অনুসারে, ভবিষ্যতে জেরুজালেমে তৃতীয় মন্দির নির্মাণের আগে আবার এমন একটি গাভীর প্রয়োজন হতে পারে বলেও অনেকে বিশ্বাস করেন। সেই কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে ইজরায়েলে কয়েকটি লাল গাভীর জন্মের খবর সামনে আসতেই তা নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে ধর্মীয় মহলে।
কিছু খ্রিস্টান ধর্মীয় গোষ্ঠীর মতে, তৃতীয় মন্দির নির্মাণ এবং লাল গাভীর উপস্থিতি বাইবেলের ‘এন্ড টাইম’ বা শেষ সময়ের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। তাঁদের বিশ্বাস, এই ঘটনাগুলি ভবিষ্যতে বড় কোনও ধর্মীয় বা ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে। ফলে অনেকেই এই ঘটনাকে শুধুমাত্র একটি বিরল জন্ম হিসেবে নয়, বরং একটি ধর্মীয় ভবিষ্যদ্বাণীর সম্ভাব্য বাস্তব রূপ হিসেবেও দেখছেন।
তবে বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন মতও রয়েছে। বহু ধর্মতত্ত্ববিদ ও গবেষক মনে করছেন, বাইবেলের এই বর্ণনাগুলি প্রতীকী এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা করা উচিত। তাঁদের মতে, কোনও একটি গাভীর জন্মকে সরাসরি পৃথিবীর শেষ সময়ের সঙ্গে যুক্ত করা বৈজ্ঞানিক বা ঐতিহাসিকভাবে সঠিক নয়। বরং এটি ধর্মীয় ঐতিহ্য ও বিশ্বাসের অংশ হিসেবেই দেখা উচিত।
তবুও লাল গাভীর জন্ম নিয়ে কৌতূহল থামছে না। ধর্মীয় আচার, প্রাচীন ভবিষ্যদ্বাণী এবং আধুনিক ব্যাখ্যার সংমিশ্রণে বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক স্তরেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। ফলে একটি গাভীর জন্মকে ঘিরেই আবার সামনে এসেছে হাজার বছরের পুরনো ধর্মীয় বিশ্বাস, যা নতুন করে ভাবাচ্ছে বিশ্বের বহু মানুষকে।