কমরান আকমলের দাবি, বড় টুর্নামেন্টের চাপের মধ্যে অনেক সময় খেলোয়াড়রা নিজেরাই চোট লুকিয়ে খেলতে চান, কারণ তারা দলের বাইরে যেতে চান না। তাঁর মতে, বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের ওপর নির্ভর করতেই টিম ম্যানেজমেন্ট এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে এর ফলে মাঠে পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়তে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন। আকমল বলেন, “অনেক সময় দর্শকরা শুধু ফলাফল দেখেন, কিন্তু মাঠের পেছনে খেলোয়াড়রা কী শারীরিক সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, সেটা সবাই জানে না।”
বিশ্বকাপের সময় বাবর আজমের ব্যাটিং নিয়ে সমালোচনা কম হয়নি। একাধিক ম্যাচে প্রত্যাশামতো রান করতে পারেননি পাকিস্তান অধিনায়ক। একইভাবে ফখর জামানের ফর্ম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। আকমলের মতে, সেই পারফরম্যান্সের পেছনে শারীরিক সমস্যাও বড় কারণ হতে পারে। তাঁর দাবি, পুরোপুরি ফিট না থেকেও দুজনেই দলের জন্য নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
এই মন্তব্য সামনে আসতেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড তথা Pakistan Cricket Board-এর ভূমিকা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক ক্রিকেট বিশেষজ্ঞের মতে, বড় টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের ফিটনেস নিয়ে আরও স্বচ্ছতা থাকা উচিত। কারণ চোট লুকিয়ে খেললে দীর্ঘমেয়াদে খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ারেও তার প্রভাব পড়তে পারে। যদিও এখনও পর্যন্ত বোর্ডের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।
তবে আকমলের এই মন্তব্য পাকিস্তান ক্রিকেটের অন্দরমহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। সমর্থকদের একাংশ মনে করছেন, যদি সত্যিই চোট থাকা সত্ত্বেও খেলানো হয়ে থাকে, তাহলে সেটি দলের কৌশলগত সিদ্ধান্ত হলেও ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। অন্যদিকে অনেকে আবার বলছেন, দেশের হয়ে বিশ্বকাপে খেলতে গেলে ক্রিকেটাররা অনেক সময় নিজের সীমার বাইরে গিয়েও লড়াই করেন। ফলে বাবর ও ফখরের ঘটনাও হয়তো তারই একটি উদাহরণ। এখন দেখার বিষয়, এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড বিষয়টি নিয়ে কোনও তদন্ত বা ব্যাখ্যা দেয় কি না।