ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গকে ঘিরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো প্রকল্পে সবুজ সংকেত দিল নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। সূত্রের খবর, রাজ্যে নতুন রেললাইন নির্মাণ, পুরনো রেলপথের আধুনিকীকরণ এবং গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলির উন্নয়নের জন্য বড়সড় বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের দাবি ওঠা বেশ কয়েকটি বাস্কুল সেতুর মেরামত ও আধুনিকীকরণের জন্যও আলাদা করে অর্থ বরাদ্দের ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। ফলে ভোটের মুখে বাংলার রেল ও সড়ক পরিকাঠামো উন্নয়নকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন রেল প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লাইনের সম্প্রসারণ, নতুন সংযোগ রেলপথ নির্মাণ এবং বেশ কিছু ব্যস্ত রুটে ডাবল লাইন তৈরির পরিকল্পনা। এর পাশাপাশি একাধিক স্টেশনে আধুনিক যাত্রীসুবিধা বাড়ানো, প্ল্যাটফর্ম সংস্কার, ডিজিটাল পরিষেবা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি, এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের বহু জেলার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও দ্রুত ও সহজ হবে এবং যাত্রীদের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষেত্রেও বড় সুবিধা মিলবে।
শুধু রেল নয়, নদী ও খালের উপর থাকা গুরুত্বপূর্ণ বাস্কুল সেতুগুলির সংস্কার নিয়েও কেন্দ্র বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই সেতুগুলির যান্ত্রিক ব্যবস্থা ও কাঠামোগত দুর্বলতা নিয়ে অভিযোগ উঠছিল। অনেক ক্ষেত্রে সেতু খোলা ও বন্ধ করার ব্যবস্থাও পুরনো হয়ে পড়ায় নৌপরিবহণ ও সড়ক যোগাযোগে সমস্যা তৈরি হচ্ছিল। নতুন বরাদ্দের ফলে এই সেতুগুলির যান্ত্রিক অংশ বদলানো, কাঠামো মজবুত করা এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেগুলিকে আরও নিরাপদ করার কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।
কেন্দ্রের দাবি, রেললাইন সম্প্রসারণ এবং সেতু সংস্কারের এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাই উন্নত হবে না, রাজ্যে শিল্প ও পর্যটনের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে পণ্য পরিবহণ দ্রুত হওয়ায় ব্যবসায়ীদের খরচ কমবে এবং বিভিন্ন জেলায় নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি নির্মাণকাজ চলাকালীন বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে এই ঘোষণা ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তর্ক-বিতর্ক। বিরোধীদের একাংশের দাবি, নির্বাচনের আগে বাংলাকে লক্ষ্য করেই এই ধরনের বড় ঘোষণা করছে কেন্দ্র। যদিও কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বলা হয়েছে, রাজ্যের দীর্ঘদিনের পরিকাঠামোগত প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এর সঙ্গে নির্বাচনের কোনও সম্পর্ক নেই। সব মিলিয়ে ভোটের আবহে পশ্চিমবঙ্গের রেল ও সেতু উন্নয়নকে ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে।