আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান এবং মুর্শিদাবাদ জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। বিশেষ করে বিকেল ও সন্ধ্যার দিকে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা। সেই কারণে সাধারণ মানুষকে অকারণে খোলা জায়গায় না থাকার এবং ঝড়ের সময় বড় গাছ বা বিদ্যুতের খুঁটির নিচে আশ্রয় না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়ার এই বদলের প্রভাব পড়তে পারে কৃষিক্ষেত্রেও। ইতিমধ্যেই অনেক জেলায় মাঠে ফসল তোলার কাজ চলছে, ফলে হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি হলে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে বজ্রপাতের ঝুঁকি থাকায় গ্রামাঞ্চলের মানুষদের বিশেষ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে শহরাঞ্চলেও ঝড়ো হাওয়ার কারণে গাছ ভেঙে পড়া বা বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ার মতো ঘটনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
এদিকে আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের ফলে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। গত কয়েকদিনের তুলনায় তাপমাত্রা কিছুটা নেমে এলেও বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় অস্বস্তি বজায় থাকতে পারে। রাতের তাপমাত্রাতেও সামান্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
সম্ভাব্য দুর্যোগের কথা মাথায় রেখে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখার পাশাপাশি বিদ্যুৎ, দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। উপকূলবর্তী এলাকায় মৎস্যজীবীদেরও আবহাওয়ার দিকে নজর রেখে সমুদ্রে যাওয়ার বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে আবহাওয়ার এই আকস্মিক পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে সতর্কতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, এবং পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে আবহাওয়া দপ্তর ও প্রশাসন।