মুখ্য সমাচার :
সতর্কবার্তা! যুবসাথী প্রকল্পের টাকা পেতে আবেদনপত্রে এই তথ্যগুলি ঠিক আছে তো? নারীর পরিচয় কি শুধু সমাজের দেওয়া নাম? নিরাপত্তার সন্ধানে নারী: শহরের আলো–ছায়ার গল্প ও আলোর পথযাত্রী গাড়ি আটকের পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বদলি সার্জেন্ট, পুলিশ মহলে চাঞ্চল্য ও জল্পনা

বদলাতে চলেছে আবহাওয়ার মেজাজ, সপ্তাহের মাঝামাঝি থেকে বৃষ্টির সম্ভাবনা

রাজ্যজুড়ে ক্রমশ বদলাতে শুরু করেছে আবহাওয়ার মেজাজ। শীত প্রায় বিদায় নিয়েছে, অন্যদিকে পুরোপুরি গরমও এখনও জাঁকিয়ে বসেনি। এরই মধ্যে নতুন করে বৃষ্টির সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিল আবহাওয়া দফতর। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টির দেখা মিলতে পারে। মূলত বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প রাজ্যের দিকে ঢুকছে এবং উপরের স্তরে বায়ুর গতিপ্রকৃতিতেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতির জেরেই আকাশের মুখ ভার হতে পারে এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস বলছে, সপ্তাহের মাঝামাঝি সময় থেকেই দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় আবহাওয়ার পরিবর্তন চোখে পড়তে পারে। কলকাতা-সহ হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, নদিয়া এবং পূর্ব বর্ধমান জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে, যার গতিবেগ ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
Pressman
07 March, 2026
বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে কালবৈশাখীর মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে হঠাৎ করেই আবহাওয়ার নাটকীয় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে দক্ষিণবঙ্গের আকাশে।
অন্যদিকে উত্তরবঙ্গেও আবহাওয়ার পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। পার্বত্য এলাকাগুলিতে মেঘ জমে মাঝে মধ্যেই বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর ফলে পাহাড়ি এলাকায় তাপমাত্রা কিছুটা কমে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। পর্যটন মরশুমে পাহাড়ে থাকা পর্যটকদেরও আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে গত কয়েকদিন ধরে রাজ্যের বেশ কিছু জেলায় দিনের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে। দুপুরের দিকে রোদের তেজ বাড়ায় অস্বস্তিকর গরমও অনুভূত হচ্ছে। তবে তাপমাত্রা খুব বেশি না বাড়লেও বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরমে নাজেহাল অবস্থা সাধারণ মানুষের। আবহাওয়া দফতরের মতে, বৃষ্টি হলে সেই অস্বস্তি অনেকটাই কমতে পারে। ফলে এই বৃষ্টির সম্ভাবনায় কিছুটা স্বস্তির আশা দেখছেন মানুষ।
কৃষি ক্ষেত্রেও এই বৃষ্টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অনেক জায়গায় জমিতে ফসলের কাজ চলছে, সেই সময় সামান্য বৃষ্টিপাত মাটির আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। তবে অতিরিক্ত বৃষ্টি বা ঝোড়ো হাওয়া হলে কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাই কৃষকদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বাংলার আকাশে বদলের ইঙ্গিত স্পষ্ট। আকাশ মেঘলা হওয়া থেকে শুরু করে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা—সব মিলিয়ে নতুন করে আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনার সাক্ষী হতে পারে রাজ্যবাসী। এখন নজর সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ের দিকে, যখন থেকে রাজ্যের একাধিক জেলায় বৃষ্টির দেখা মিলতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
Follow Us ই-পেপার