মুখ্য সমাচার :
সতর্কবার্তা! যুবসাথী প্রকল্পের টাকা পেতে আবেদনপত্রে এই তথ্যগুলি ঠিক আছে তো? নারীর পরিচয় কি শুধু সমাজের দেওয়া নাম? নিরাপত্তার সন্ধানে নারী: শহরের আলো–ছায়ার গল্প ও আলোর পথযাত্রী গাড়ি আটকের পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বদলি সার্জেন্ট, পুলিশ মহলে চাঞ্চল্য ও জল্পনা

ক্লাস চলাকালীনই মারধর! মাকে গালির অভিযোগে শিক্ষকের উপর চড়াও দশম শ্রেণির ছাত্র

স্কুলের ভরা ক্লাসরুমে আচমকাই ঘটে গেল চাঞ্চল্যকর ঘটনা। পাঠদান চলাকালীনই শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠল দশম শ্রেণির এক ছাত্রের বিরুদ্ধে। সহপাঠীদের সামনে শিক্ষককে থাপ্পড় ও ঘুষি মারার এই ঘটনাকে ঘিরে মুহূর্তের মধ্যেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা স্কুলে। পরে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড় পড়ে যায় এলাকায়। শিক্ষাঙ্গনের শৃঙ্খলা, শিক্ষক-ছাত্র সম্পর্ক এবং বিদ্যালয়ের পরিবেশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সূত্রের খবর, প্রতিদিনের মতোই সেদিনও স্কুলে নিয়মিত ক্লাস চলছিল। দশম শ্রেণির ওই ক্লাসে পাঠদান করছিলেন এক শিক্ষক। কোনও একটি বিষয় নিয়ে ওই ছাত্রকে প্রশ্ন করেন তিনি। সেই প্রসঙ্গেই প্রথমে শিক্ষক ও ছাত্রের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয় বলে দাবি সহপাঠীদের একাংশের। প্রথমে বিষয়টি সাধারণ বচসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, তর্কের মাঝেই শিক্ষক নাকি ছাত্রটির মাকে উদ্দেশ্য করে অপমানজনক মন্তব্য করেন বা গালিগালাজ করেন। এই মন্তব্য শুনেই রাগে ফেটে পড়ে ছাত্রটি।
Pressman
07 March, 2026
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আচমকাই সে নিজের আসন থেকে উঠে দাঁড়ায় এবং শিক্ষককে উদ্দেশ্য করে চিৎকার করতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অভিযোগ, এরপরই সে শিক্ষকের দিকে এগিয়ে গিয়ে প্রথমে তাঁকে থাপ্পড় মারে। তারপর একাধিকবার ঘুষিও মারতে থাকে। সহপাঠীদের সামনে এমন ঘটনায় মুহূর্তে স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো ক্লাসরুম।
হঠাৎ এমন ঘটনার জেরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে। অনেকেই ভয়ে চিৎকার করতে শুরু করে। কেউ কেউ বেঞ্চ ছেড়ে দূরে সরে যায়। ক্লাসরুমের বাইরে থেকেও চেঁচামেচির শব্দ শুনতে পান অন্যান্য শিক্ষক ও স্কুলকর্মীরা। দ্রুত তারা ছুটে এসে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। অভিযুক্ত ছাত্রকে কোনওরকমে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় ক্লাসরুম থেকে।
এরপর আহত শিক্ষককে স্কুলেরই একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। যদিও তাঁর আঘাত গুরুতর নয় বলে জানা গেছে, তবু আচমকা এমন ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে ভীষণভাবে আঘাত পেয়েছেন বলে সহকর্মীরা জানিয়েছেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত ছাত্রটিকেও আলাদা করে বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
ঘটনার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়তেই স্কুল চত্বরে ভিড় জমাতে শুরু করেন অভিভাবকরা। অনেকেই এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের বক্তব্য, শিক্ষককে মারধর করার ঘটনা অত্যন্ত গুরুতর এবং শিক্ষাঙ্গনে এমন ঘটনা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আবার অন্য একটি অংশের দাবি, যদি সত্যিই ছাত্রের পরিবারকে নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য করা হয়ে থাকে, তবে সেটিও শিক্ষকের পক্ষ থেকে অনুচিত আচরণ।
স্কুল কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। ক্লাসে উপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও অভিযুক্ত ছাত্রের কাছ থেকেও ঘটনার বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ওই ছাত্রের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সূত্রের খবর। একই সঙ্গে পুরো ঘটনার সত্যতা যাচাই না করে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ঘটনাটি সামনে আসতেই শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা, পারস্পরিক সম্মান এবং শিক্ষক-ছাত্র সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, বর্তমান সময়ে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে মানসিক চাপ, পারিবারিক সমস্যা এবং সামাজিক প্রভাবও আচরণে প্রভাব ফেলছে। তাই শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, পাশাপাশি কাউন্সেলিং ও সচেতনতার উপরও জোর দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদদের একাংশ।
Follow Us ই-পেপার