এক ধাক্কায় বাড়ল রান্নার গ্যাসের দাম! সিলিন্ডার প্রতি বাড়তি কত টাকা গুনতে হবে?
আবারও সাধারণ মানুষের পকেটে চাপ বাড়াল রান্নার গ্যাসের দাম। এক ধাক্কায় বেশ কিছুটা বাড়ানো হল এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য। নতুন ঘোষণার পর থেকেই স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগে পড়েছেন গৃহস্থরা। জ্বালানির বাড়তি দামের প্রভাব পড়বে দৈনন্দিন খরচের ওপর, এমন আশঙ্কাও করছেন অনেকেই। সরকারি তেল সংস্থাগুলির তরফে জানানো হয়েছে, সংশোধিত দামের ফলে গৃহস্থালির ব্যবহারের ১৪.২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক লাফে বেড়েছে প্রায় ৫০ টাকা। ফলে যে সিলিন্ডার এতদিন প্রায় ৯৫৩ টাকায় পাওয়া যাচ্ছিল, তা এখন থেকে কিনতে খরচ হবে প্রায় ১০০৩ টাকা। শহরভেদে এই দামে সামান্য হেরফের হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।
তেল সংস্থাগুলির দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামা, ডলার–রুপির বিনিময় হার এবং পরিবহণ খরচ বৃদ্ধির কারণেই এই মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই ঘোষণার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে শুরু করেছে। অনেকেই বলছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম এমনিতেই ক্রমাগত বাড়ছে, তার মধ্যে আবার রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ায় সংসারের বাজেট সামলানো আরও কঠিন হয়ে উঠবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাসের দাম বাড়লে তার প্রভাব শুধু গৃহস্থালির রান্নাঘরেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং ছোট ব্যবসা, হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং খাবারের দোকানগুলির খরচও বেড়ে যায়। ফলে পরোক্ষভাবে খাদ্যপণ্যের দামেও তার প্রভাব পড়তে পারে। ফলে মূল্যবৃদ্ধির এই ধাক্কা সাধারণ মানুষের উপর আরও বেশি চাপ তৈরি করতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার আওতায় থাকা গ্রাহকরা এখনও ভর্তুকির সুবিধা পাবেন। সেই কারণে ওই প্রকল্পের উপভোক্তাদের ক্ষেত্রে কার্যত কিছুটা কম দামে সিলিন্ডার পাওয়া সম্ভব হবে। তবে ভর্তুকির বাইরে থাকা গ্রাহকদের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ দামই দিতে হবে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে গ্যাসের দাম বাড়ানোকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বিরোধীদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের কথা না ভেবেই বারবার জ্বালানির দাম বাড়ানো হচ্ছে। অন্যদিকে সরকারের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির উপর অনেকটাই নির্ভর করে এই দাম নির্ধারণ করা হয়। সব মিলিয়ে রান্নার গ্যাসের এই নতুন দাম কার্যকর হওয়ায় আবারও চাপে পড়ল মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সংসারের হিসেব।