দেশের অবস্থা তো খারাপ হবে’—মমতার মঞ্চে রামকৃষ্ণ মিশনের প্রেসিডেন্ট? পরে জানালেন, ‘আমার নাম নেই’
রাজ্যের রাজনৈতিক মঞ্চে আচমকাই তৈরি হল নতুন বিতর্ক। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্নামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি উঠল রামকৃষ্ণ–সারদা মিশনের এক প্রেসিডেন্টের নাম ঘিরে। কিন্তু সেই দাবিকে ঘিরেই শুরু হয়েছে জল্পনা, কারণ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজেই জানিয়ে দিয়েছেন—এই কর্মসূচির সঙ্গে তাঁর নাম বা উপস্থিতির কোনও সম্পর্ক নেই। আর সেই মন্তব্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের বিভিন্ন ইস্যুতে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে ধর্নায় বসেন। সেই ধর্নামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি, সমাজকর্মী এবং বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। সেই তালিকায় নাকি রামকৃষ্ণ–সারদা মিশনের এক প্রেসিডেন্টের নামও উঠে আসে। মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “দেশের অবস্থা তো খারাপ হবে,”—এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয় তুমুল বিতর্ক।
তবে ঘটনার পরই পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। সংশ্লিষ্ট মিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, সংগঠনের তরফে কোনও প্রেসিডেন্ট ওই ধর্নামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন না। এমনকি যাঁর নাম ঘিরে আলোচনা চলছে, তিনিও স্পষ্ট করে বলেন—“এই কর্মসূচিতে আমার নাম নেই। আমাকে কেউ আমন্ত্রণও জানায়নি।” তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তাহলে মঞ্চে দাঁড়িয়ে ওই মন্তব্য করলেন কে?
রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, বিষয়টি নিয়ে অযথা বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের দাবি, ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক প্রতিষ্ঠানের নাম রাজনৈতিক কর্মসূচির সঙ্গে জড়িয়ে দেওয়া ঠিক নয়। এই ঘটনার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়াতেও শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। অনেকেই জানতে চাইছেন, প্রকৃত সত্যিটা কী।
যদিও পুরো ঘটনার মাঝেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধর্নামঞ্চে নিজের অবস্থান থেকে কেন্দ্রীয় নীতির সমালোচনা চালিয়ে যান। তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রতিনিধিরাও বক্তব্য রাখেন। কিন্তু রামকৃষ্ণ–সারদা মিশনের প্রেসিডেন্টের নাম ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিভ্রান্তি রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন ফেলেছে। এখন দেখার, এই বিতর্ক নিয়ে ভবিষ্যতে আর কী তথ্য সামনে আসে।